Advertisement
E-Paper

‘কোয়রান্টিন’-এ বিষাদ কাটাচ্ছেন ‘অ্যাডোলেসেন্ট কাউন্সিলরেরা’  

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘অ্যাডোলেসেন্ট কাউন্সিলর’-রা ব্লক স্বাস্থ্য দফতরে কাজ করেন।

শুভ্রপ্রকাশ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২০ ০২:১৫
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ভিন্ রাজ্য থেকে এসে ১৪ দিনের জন্য সোজা প্রশাসনিক ‘কোয়রান্টিন’-এ। ফিরেও ফিরতে পারছেন না পরিজনেদের কাছে। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন অনেকেই। পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর জানান, জেলায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। ৩৩টি ‘কোয়রান্টিন’-এ থাকা মানুষজনের ‘কাউন্সেলিং’ করার জন্য তেমন চিকিৎসক রয়েছেন চার-পাঁচ জন। তিনি বলেন, ‘‘ঘাটতি অনেকটাই মিটিয়ে দিচ্ছেন ‘অ্যাডোলেসেন্ট কাউন্সিলর’-রা। তাঁদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটা ভাল ভাবেই পালন করে চলেছেন।’’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘অ্যাডোলেসেন্ট কাউন্সিলর’-রা ব্লক স্বাস্থ্য দফতরে কাজ করেন। মূলত বয়ঃসন্ধির কিশোর-কিশোরীদের মনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমস্যার কথা শুনে ‘কাউন্সেলিং’ করেন তাঁরা। ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্বেষা ক্লিনিকে সপ্তাহে ছ’দিন বসেন। এ ছাড়া, স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়িতে গিয়ে কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার ৩৩টি প্রশাসনিক ‘কোয়রান্টিন’-এ এখন প্রায় পাঁচশো লোক রয়েছেন। তাঁদের ‘কাউন্সেলিং’ করছেন মোট ৩৮ জন ‘অ্যাডোলেসেন্ট কাউন্সিলর’। ওই কাউন্সিলরদের মধ্যে ২০ জন মহিলা এবং ১৭ জন পুরুষ বিভিন্ন ব্লকের স্বাস্থ্য দফতরে কর্মরত। আর এক জন কর্মরত দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে। দরকার মতো তাঁদের সাহায্য করছেন জেলা হাসপাতালের এক মনোরোগের চিকিৎসক ও ব্লক স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি।

পুরুলিয়ার প্রচুর শ্রমিক ভিন্ রাজ্যে কাজ করেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতেই অনেকে বাড়ি ফিরেছেন। তেমন কারও খোঁজ পেলেই বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না নিয়ে বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে জেলা প্রশাসন। সর্দি, কাশি বা জ্বরের মতো কোনও উপসর্গ নজরে এলেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনিক ‘কোয়রান্টিন’-এ।

এ দিকে, পরিবারের থেকে টানা দূরে থাকায় মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে ‘কোয়রান্টিন’ লোকজনের মধ্যে।

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘‘অ্যাডোলেসেন্ট কাউন্সিলরে’রা ওই সমস্ত লোকজনকে বুঝিয়ে মনের জোর বাড়ানোর চেষ্টা করে চলেছেন।’’ তবে কাজটা খুব একটা সহজ নয় বলেই জানাচ্ছন নিতুড়িয়া ব্লক স্বাস্থ্য দফতরের ‘অ্যাডোলেসেন্ট কাউন্সিলর’ সঞ্জীব পণ্ডিত, সাঁতুড়ির গার্গী মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া ১ ব্লকের তাপস কর্মকারেরা।

তাঁদের কথায়, ‘‘অনেকে বেশ মনমরা হয়ে পড়ছেন। দীর্ঘক্ষণ কথা বলে পুরো পরিস্থিতি বোঝানো হচ্ছে তাঁদের।’’ সঞ্জীববাবু বলেন, ‘‘সহজেই সবাই পুরোটা বুঝে যাচ্ছেন, ব্যাপারটা তেমন নয়। তবে তাঁদের মন ভাল রাখার জন্য যথাসাধ্য

চেষ্টা করছি।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy