Advertisement
E-Paper

করোনা-সতর্কতায় বিষ্ণুপুরে বন্ধ মন্দির

এই সিদ্ধান্তে হতাশ মন্দির দর্শনের জন্য আসা পর্যটকেরা।

শুভ্র মিত্র

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২০ ০৭:২৩
এই নোটিসে হতাশ পর্যটকেরা। মঙ্গলবার শ্যামরাই মন্দিরে। নিজস্ব চিত্র

এই নোটিসে হতাশ পর্যটকেরা। মঙ্গলবার শ্যামরাই মন্দিরে। নিজস্ব চিত্র

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে রাজ্য এবং কেন্দ্র। মঙ্গলবার সংস্কৃতি মন্ত্রক নির্দেশ দেয়, ভারতীয় পুরাতত্ত্ব ও সর্বেক্ষণ বিভাগের আওতায় থাকা সৌধ, মন্দির ও মিনারগুলি আপাতত বন্ধ থাকবে। নির্দেশ মেনে এ দিন পুরাতত্ত্ব ও সর্বেক্ষণ বিভাগের বিষ্ণুপুর সার্কেলের অধীনে থাকা ৩৮টি মন্দির এবং সৌধ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সংস্থার কলকাতা সার্কেলের আরকিওজিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট শুভ মজুমদার বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের নিরপত্তার খাতিরে এই সিদ্ধান্ত। পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের অধীনে থাকা সৌধ, যেখানে জনাসমগম হয় এবং বিদেশি পর্যটকেরা আসেন, সেই জায়গাগুলি আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’’

এই সিদ্ধান্তে হতাশ মন্দির দর্শনের জন্য আসা পর্যটকেরা। হতাশ বিষ্ণুপুরের গাইড এবং পর্যটন নগরীর ব্যবসায়ীদের একাংশ। বৈষ্ণবঘাটার সুশোভন রায় মেয়েকে নিয়ে দুপুরে রাধেশ্যাম মন্দিরে গিয়ে তালা দেখে থমকে দাঁড়ান। শুধু রাধেশ্যাম মন্দিরই নয়, শ্যামরাই, রাসমঞ্চ, জোড়বাংলা মন্দির, দলমাদল কামান— পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের আওতায় থাকা সব জায়গাতেই প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংস্থার বিষ্ণুপুর সার্কেলের আধিকারিক রোহিত কুমার জানান, তাঁদের সার্কেলে সংরক্ষিত ৩৮টি সৌধের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

ঐতিহাসিক সৌধগুলি দেখতে এ দিন বিষ্ণুপুর এসেছিলেন হুগলির বিকাশ বসু বা আসানসোলের দেবযানী সেনের মতো অনেক পর্যটক। শ্যামরাই মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে বিকাশবাবু বলেন, ‘‘এখানে এসে দেখি, গেটে তালা দেওয়া। দূর থেকে ক্যামেরায় জুম করে মন্দিরের দেওয়ালের অপরূপ কাজ দেখলাম।’’ বিষ্ণুপুরের গাইড বিশ্বজিৎ প্রামাণিক বলেন, ‘‘শীতের মরসুমে পর্যটনে জোয়ার ছিল। করোনা পরিস্থিতির জেরে স্কুলে দীর্ঘ ছুটির কথা ঘোষণার পরে, সোমবার বিষ্ণুপুরে ভিড় বেড়েছিল। রোজগার ও ভাল হয়েছিল। কিন্তু এ দিনের বিজ্ঞপ্তি সব কিছুতে জল ঢেলে দিল। এ বার ঘরে বসে থাকতে হবে। কী করে পেট চলবে জানি না।’’ টেরাকোটার হরেক পসরা সাজিয়ে জোড়বাংলার সামনে মুখ ব্যাজার করে বসেছিলেন স্বপন দাস, কাঞ্চন পাত্রের মতো অনেক ছোট ব্যবসায়ী। তাঁরা বলেন, ‘‘খুব কম সংখ্যক পর্যটক এসেছেন এ দিন। মন্দির বন্ধ দেখে তাঁরা ফিরে গিয়েছেন। বেচাকেনা একদমই হয়নি। সংসার টানব কী করে বুঝতে পারছি না।’’

বিষ্ণুপুরের টোটোমালিক সুরজিৎ কুণ্ডুর কথায়, ‘‘প্রতিদিন পর্যটকদের মন্দির ঘুরিয়ে দেখাতাম। দু’পয়সা রোজগার হত। কোথা থেকে কী ভাইরাস এল কে জানে। রাস্তায় লোক কমেছে। পর্যটকও আর মিলবে বলবে মনে হয় না।’’ মদনমোহন মন্দিরের পুজারি বাঁশরী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘একাই দুপুরের আরতি করলাম এ দিন।’’ সংস্কৃতি মন্ত্রকের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল আ্যাসোসিয়েশন’-এর বাঁকুড়া জেলার সম্পাদক অশোক চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘মন্দির দেখতে বহু বিদেশি পর্যটক এখানে আসেন। জনসমাগম এড়িয়ে চলা ভাল। সাধারণের নিরপত্তার স্বার্থে এই বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজন ছিল।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy