কলকাতায় স্বাস্থ্যভবনের সঙ্গে আলোচনার পরে, পুরসভা ও প্রশাসনের সহায়তায় বাঁকুড়া মেডিক্যালে মৃত দুই রোগীর সৎকার হল রবিবার রাতে। এক জন পুরুলিয়ার সাঁতুড়ি ও অন্য জন বাঁকুড়া শহর লাগোয়া এলাকার বাসিন্দা।
মেডিক্যালের সুপার গৌতমনারায়ণ সরকার জানান, দু’জনই জ্বর আর কাশির উপসর্গ নিয়ে ‘ফিভার আইসোলেশন ওয়ার্ড’-এ ভর্তি ছিলেন। মৃত্যু হয় রবিবার সকালে। তার আগে শ্বাসের সমস্যা গুরুতর হয়েছিল। উপসর্গগুলি ‘সন্দেহজনক’ মনে হওয়ায় রবিবারই দু’জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সোমবার রাত পর্যন্ত রিপোর্ট হাতে আসেনি।
মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁতুড়ির মৃত তরুণের বয়স ১৮ বছর। জন্ম থেকেই তাঁর হৃদযন্ত্রে সমস্যা ছিল। রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ তাঁকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। জানা যায়, সাত দিন ধরে জ্বর, কাশি ও গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। মৃত্যু হয় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে।
মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বাঁকুড়া শহর লাগোয়া এলাকার ৫৪ বছরের অন্য ব্যক্তি দীর্ঘদিন ফুসফুসের অসুখে ভুগছিলেন। শনিবার বিকেলে তাঁকে আনা হয় বহির্বিভাগে। জানা যায়, দিন সাতেক ধরে জ্বর, কাশি আর শ্বাসের সমস্যা রয়েছে। রবিবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে মৃত্যু হয় তাঁর।
মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, দু’জনের কেউ সম্প্রতি বাইরে জাননি। বাইরে থেকে ফেরা কারও সংস্পর্শেও আসেননি। মেডিক্যালের সুপার বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, তা জানতেই স্বাস্থ্যভবনে চিঠি পাঠিয়েছিলাম।’’ তিনি জানান, আলোচনার পরে, রবিবার দুই পরিবারের উপস্থিতিতে, পুরসভা ও প্রশাসনের সহায়তায় বাঁকুড়া শহর লাগোয়া লক্ষাতড়া মহাশ্মশানে দেহ দু’টির সৎকার হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার মৃত ব্যক্তির পরিবারের ১০ জন এবং সাঁতুড়ির মৃত তরুণের পরিবারের আট জনকে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে সরকারি ‘কোয়রান্টিন সেন্টার’-এ।