Advertisement
E-Paper

ছুটির কথা বলা হলেও চালু আইসিডিএস কেন্দ্র

এ দিন অবশ্য বিষ্ণুপুর শহরের কয়েকটি আইসিডিএস কেন্দ্র ঘুরে দেখা গিয়েছে, সেগুলি চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২০ ০৭:৩৭
 বিষ্ণুপুর শহরের বোলতলা এলাকায় শুক্রবার চলল একটি আইসিডিএস কেন্দ্র। ছবি: শুভ্র মিত্র

বিষ্ণুপুর শহরের বোলতলা এলাকায় শুক্রবার চলল একটি আইসিডিএস কেন্দ্র। ছবি: শুভ্র মিত্র

করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্কতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির ছুটির মেয়াদ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। নির্দেশ দিয়েছেন, আইসিডিএস কর্মীরা উপভোক্তাদের বাড়িতে গিয়ে দু’কেজি করে চাল ও আলু পৌঁছে দেবেন। সোমবার তিনি ওই নির্দেশ দিলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তা নির্দেশিকার আকারে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় পৌঁছয়নি বলে দাবি প্রশাসন সূত্রের। ফলে, মঙ্গলবার কোথাও চলল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে, কোথাও আবার বন্ধ। যেখানে চলল, সেখানে কাছাকাছি বসে পড়াশোনা করতে দেখা গেল শিশুদের। যা নিয়ে আতঙ্কিত অনেক অভিভাবক। তবে অনেকেই এ দিন শিশুদের পাঠাননি। ওই সব কেন্দ্রে খাবার ও ওষুধ নিতে আসেন গর্ভবতী ও প্রসূতিরা। তাঁদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগে পরিজনেরা।

বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (‌জেলা পরিষদ) শঙ্কর নস্কর জানান, আজ, বুধবার থেকে জেলার সমস্ত আইসিডিএস কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনো খাবার উপভোক্তাদের হাতে তুলে দিয়ে আসবেন। পুরুলিয়ার জেলা প্রকল্প আধিকারিক (আইসিডিএস) আনজুম রহমান বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে এ দিন থেকে জেলার অধিকাংশ আইসিডিএস বন্ধ। তবে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ পাইনি।’’

এ দিন অবশ্য বিষ্ণুপুর শহরের কয়েকটি আইসিডিএস কেন্দ্র ঘুরে দেখা গিয়েছে, সেগুলি চলছে। তবে কয়েকটি জায়গায় পড়ুয়া কম এসেছে। বিষ্ণুপুরের তেজপাল এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মল্লিকা নন্দী শীট জানান, তাঁর কেন্দ্রে ২০ জন শিশু আসে। কিন্তু গত দু’দিনে সে সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে। বিষ্ণুপুরের বোলতলা এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী পূর্ণিমা দালাল চৌধুরী বলেন, ‘‘প্রতি দিন ছেলেমেয়ে মিলে ২৪ জন আসে। এ দিন এসেছে মোটে ছ’জন। তবে খাবার দেওয়ার আগে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার ব্যাপারে জোর দিয়েছি। প্রসূতিদের পরিচ্ছন্ন থাকতে বলছি।’’

বাঁকুড়া জেলায় এই মুহূর্তে ৫,৬৮৫টি আইসিডিএস কেন্দ্র চলছে। এ দিকে, আইসিডিএস কেন্দ্র বন্ধ থাকার সিদ্ধান্তকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা দিনমজুর বাবলু বাউরি বলেন, “আমরা স্বামী-স্ত্রী প্রতিদিন কাজে বেরিয়ে যাই। বাড়িতে রান্না-বান্না করার কেউ নেই। ছেলেটা আইসিডিএস কেন্দ্রে সময়ে খাবার পেত। পড়াশোনাও করতে পারত। এখন বাচ্চার জন্য এক জনকে বাড়িতেই থাকতে হবে। রুজিতে টান পড়বে।” অবশ্য মড়ারের বাসিন্দা জুলফিকার হোসেন, সইদুল খান, অমিত ঘোষের মতো অভিভাবকেরা বলছেন, ‘‘আতঙ্ক যখন ছড়িয়েছে তখন বাচ্চাদের বাড়িতে আটকে রাখাই ভাল। স্কুল-কলেজ যখন বন্ধ, তখন আইসিডিএস কেন্দ্র বন্ধ হয়ে ভাল হয়েছে। আতঙ্ক কাটলে আমরাও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাব।”

পুরুলিয়া জেলায় ৪,৮৩৩টি আইসিডিএস কেন্দ্র রয়েছে। এ দিন বান্দোয়ান, মানবাজার ২, বরাবাজারের বেশ কিছু আইসিডিএস কেন্দ্র খোলা থাকলেও রঘুনাথপুর ১, ঝালদা ১ ব্লকে আবার বন্ধ দেখা যায়। মানবাজারের ঝাড়বাগদা কেন্দ্রের কর্মী অনুরূপা সেন বলেন, ‘‘মঙ্গলবার সকাল ৮টার পরে আইসিডিএস কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ পেয়েছি। তবে তার আগেই রান্না হয়ে যাওয়ায় শিশু ও প্রসূতিদের খাবার দেওয়া হয়েছে।’’ একই ছবি দেখা গিয়েছে বান্দোয়ান ব্লকেও। বান্দোয়ানের সিডিপিও সোয়েব সিদ্দিকি জানান, মঙ্গলবার বেলা পর্যন্ত জেলা থেকে নির্দেশ না পাওয়ায় সব ক’টি কেন্দ্রই এ দিন খোলা ছিল।

তবে ভিন্ন ছবি দেখা গিয়েছে অন্য ব্লকগুলিতে। রঘুনাথপুর ১ ব্লকের সিডিপিও রাজেশ দিন্দা জানান, নির্দেশ পেয়ে ব্লকের ১৮৪টি কেন্দ্রই মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই কথা জানাচ্ছেন ঝালদা ১ ব্লকের সিডিপিও সৌম্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তবে এর পরে আইসিডিএস কেন্দ্রের শিশু ও প্রসূতদের খাবার কী ভাবে দেওয়া হবে, সেই নিয়ে কিছুট ধন্দে পড়েছেন সিডিপিও-রা।

কয়েকটি ব্লকের সিডিপিও বলেন, ‘‘কেন্দ্র বন্ধ থাকায় হয়তো চাল, ডাল, আনাজ প্রসূতি ও শিশুদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলা হবে। কিন্তু কর্মী অপ্রতুল। এই অবস্থায় সকলের বাড়িতে সেই চাল, ডাল কী ভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে?” এ বিষয়ে রাজ্য থেকে কী নির্দেশ আসে, অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy