Advertisement
E-Paper

বাড়ি বাড়ি চাল-ডাল কী ভাবে

কিন্তু সেই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা অন্য অনেক জেলার মতো বীরভূমেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌঁছয়নি।

দয়াল সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২০ ০৭:০৩
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

করোনা সংক্রমণ রুখতে রাজ্য সরকারের নির্দেশে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি এপ্রিলের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রও বন্ধ থাকবে। কিন্তু রাজ্য জুড়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির উপরে নির্ভরশীল প্রসূতি মা ও শিশুরা যাতে সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি মাথা পিছু ২ কেজি করে চাল ও আলু পৌঁছে দেওয়া হবে। সোমবার বিকেলে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই জানিয়েছিলেন।

কিন্তু সেই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা অন্য অনেক জেলার মতো বীরভূমেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌঁছয়নি। ফলে, কী ভাবে বাড়ি বাড়ি এই বিলি বণ্টন হবে ব্যবস্থা কার্যকর হবে সেই নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের চিন্তা, সীমিতসংখ্যক কর্মী, সহায়িকাদের দিয়ে কী ভাবে এত সংখ্যক উপভোক্তা পরিবারে চাল-আলু এত পৌঁছনো হবে। সঙ্গে প্রাপ্য ডিম, সয়াবিন বা আনাজপাতিও দিতে হবে কিনা, সে-সব প্রশ্নের উত্তরও নেই। দফতরের আধিকারিক, সুপারভাইজার, কর্মী, সহায়িকা সকলেই দোলাচলে। তাঁদের একটা অংশ বলছেন, এমনটা হলে সত্যিই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হতে চলেছে। অন্য দিকে উপভোক্তাদের প্রশ্ন, রান্না করা সুষম খাবারের বদলে শুধু চাল আলু কেন? সোমবার ওই নির্দেশের পরে জেলায় কেন্দ্রগুলি বন্ধ হয়েছে। ফলে, মঙ্গলবার কোনও উপভোক্তাই খাবার পায়নি। আজ, বুধবারও তারা খাবার পাবে কিনা, তার নিশ্চয়তা মেলেনি।

বীরভূমের সুসংহত শিশু বিকাশ দফতরের প্রকল্প আধিকারিক সৌরাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘‘নির্দেশিকা হাতে পেলেই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব।’’

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বীরভূমে অনুমোদিত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সংখ্যা ৫১৯১টি। চালু রয়েছে ৫০৪৮টি। একটি কেন্দ্রে এক জন কর্মী ও এক জন সহায়িকা থাকেন। বীরভূমে মোট অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী রয়েছেন প্রায় ৪৮০০ জন। সহায়িকা প্রায় ৪২০০। সেখানে ছ’মাস থেকে ছ’বছর পর্যন্ত শিশু, গর্ভবতী এবং প্রসূতি মিলিয়ে উপভোক্তা ৪ লক্ষে ২০ হাজারেরও বেশি।

এত সংখ্যক পরিবারে হিসেব করে ‘রেশন’ পৌঁছনো কী ভাবে সম্ভব, সেটা সপ্তাহে হবে,

এক পক্ষের জন্য না গোটা মাসের জন্য— সেখানেও ধোঁয়াশা। শিশুবিকাশ প্রকল্প দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘নির্দেশ যখন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, তখন দফতর নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই নির্দেশ পাঠাবে। তবে কী ভাবে গোটা বিষয়টি সম্পন্ন হবে সেটা আমরাও জানি না।’’

প্রশাসন সূত্রের খবর, চাল-আলু ঠিকমতো বিলি হচ্ছে কিনা, সেটা দেখভালের দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে থাকবে বলে ধারণা, সেই সুপারভাইজ়ারদের সংখ্যাও জেলায় যথেষ্ট কম। যেখানে ২১৩ জন সুপারভাইজ়ার থাকার কথা, সেখানে রয়েছেন মাত্র ৬৬ জন।

দফতর সূত্রে খবর, সরকারের তরফে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে চাল, ডাল, তেল ও নুন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

উপভোক্তা পিছু বরাদ্দ থেকে আলু, সয়াবিন, হলুদ, আনাজ, ডিম দোকান থেকে কিনে নেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীরা। উপভোক্তাদের প্রশ্ন, শুধু চাল বা আলু কেন, বাকি জিনিস কেন তাঁরা পাবেন না? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের একটা অংশের দাবি, ‘‘ডিম, সয়াবিন ছাড়া আনাজ মশলার জন্য বরাদ্দও খব কম। তার মধ্যেই কেন্দ্র থেকে রান্না করা খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু কেন্দ্র প্রতি বরাদ্দ রেশন হিসেব করে যদি উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি যেতে হয়, সেটা কী ভাবে করা সম্ভব জানি না। এর থেকে কেন্দ্র খুলে রান্না করা খাবার দেওয়া সহজ।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy