এক এক করে খালি হয়ে যাওয়া হস্টেলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিদেশ ও ভিন্ রাজ্যের ছাত্রীদের একসঙ্গে রাখা হয়েছিল বিশ্বভারতীর প্রতিমা ছাত্রীনিবাস, আনন্দসদন এবং আম্রপালী ছাত্রীনিবাসে। মঙ্গলবার তালা ঝুলল প্রতিমা ছাত্রীনিবাসেও।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সতর্কতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ন’টি ছাত্রাবাসের মধ্যে ছ’টি আগেই ফাঁকা হয়েছিল। এ দিন বাংলাদেশের মোট ছয় ছাত্র-ছাত্রী হস্টেল ছেড়ে যাওয়ার জন্য লিখিত আবেদন জানান। তাঁদের শর্তসাপেক্ষে যেতে দেওয়া হয় বলে বিশ্বভারতীর ফরেন স্টুডেন্ট সেল সূত্রে জানা গিয়েছে।
তাঁদের দেখাদেখি আরও কয়েকজন বিদেশ ও অন্য রাজ্যের ছাত্রী বুধ ও বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরতে চান বলে আর্জি জানিয়েছেন। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ যদিও এ দিন জানিয়েছেন, বিদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হস্টেলে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার পরেও কেউ নিজেদের দেশে ফিরতে চাইলে ব্যক্তিগত দায়িত্বে যেতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত আর হস্টেলে ফেরা যাবে না।
এই অবস্থায় বিদেশি আবাসিক পড়ুয়াদের বাড়ি ফেরার অনুমতি পাওয়ার জন্য ফরেন স্টুডেন্টস সেলকে একটি লিখিত অঙ্গীকার পত্র দিতে হচ্ছে। যাতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হচ্ছে নানা বিষয়।
সেগুলি হল: ১) পড়ুয়ারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন, ২) যাত্রাপথে কোনও সমস্যা হলে বিশ্বভারতী সে ক্ষেত্রে দায়ী নয়, ৩) কোনও কারণে যদি নিজেদের দেশে পৌঁছতে না পারেন, তবে তাঁরা পঠন পাঠন শুরু হওয়ার আগে আর হস্টেলে ফিরতে পারবেন না, ৪) ভারত সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৫ই এপ্রিলের আগে তারা ভারতবর্ষে ফিরতে পারবেন না।
এ ব্যাপারে ফরেন স্টুডেন্টস সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা কাউকে জোর করে থাকতে বলতে পারি না। আবার এইটুকু সময়ের মধ্যে কারও পক্ষে বাড়ি থেকে ছুটির জন্য অনুমতিপত্র যোগাড় করাও সম্ভব নয়। আর বিশ্বভারতীর পক্ষেও সম্ভব নয় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজেদের দেশে ফেরা পর্যন্ত নিরাপত্তা দেওয়া। তাই আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে লিখিত অঙ্গীকারপত্র নিয়েছি। তবে পরীক্ষার আগে ছাত্রছাত্রীরা ফিরতে না পারলে, সেক্ষেত্রে বিশ্বভারতী নিশ্চয়ই তাদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
যে ছয় পড়ুয়া মঙ্গলবার দুপুরে হস্টেল ছাড়লেন, তাঁদের মধ্যে তিন জনই প্রতিমা ছাত্রীনিবাসে ছিলেন। তাঁদের এক জনের কথায়, ‘‘প্রথমে আমাদের বলা হয়েছিল ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এখন জানানো হচ্ছে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এতদিন এখানে এভাবে থাকব কি করে? হস্টেলে কার্যত বন্দি অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। ঘর থেকে বেরনোর অনুমতি নেই। দু’বেলা যে খাবার আসছে সেটুকুই খাওয়া। দোকান থেকে নিজেরাও যে কিছু কিনে আনব সেই উপায় নেই। এ ভাবে
থাকা যায় না।’’
এ দিন বিকেল সাড়ে চারটের সময় ট্রেন ধরে তাঁরা কলকাতা যান। সেখানে রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে বুধবার সকালে বনগাঁ গিয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাবেন তাঁরা। এই ছ’জনের হস্টেল ছাড়ার পরেই বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ছাত্রী দেশে ফেরার কথা ভাবছেন। তাঁদেরই একজনের কথায়, “আমরা জানতে পেরেছিলাম বাংলাদেশের সমস্ত সীমান্ত গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই পঠন-পাঠন বন্ধ থাকলেও বিশ্বভারতীতে থেকে যাওয়া ছাড়া আমাদের কাছে কোনও পথ খোলা ছিল না। কিন্তু পরে আমরা জানতে পারি, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারত থেকে দেশে ফিরতে কোনও বাধা নেই। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আমরাও দেশে ফিরে যাব।”
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত খোলা থাকা আম্রপালী ছাত্রীনিবাসে ২০জন বাংলাদেশের ছাত্রী ও ছ’জন দেশেরই অন্য রাজ্যের ছাত্রী আছেন। আনন্দসদনে আছেন ছ’জন ছাত্রী। তাঁদের জন্য রান্না এক সঙ্গেই হচ্ছে। কারও কোনও অসুবিধা হলে ফরেন স্টুডেন্টস সেলে জানানোর কথা বলা হয়েছে।