‘দিদির দূত’ তৃণমূলের আরও এক বিধায়ক গ্রামে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন। গ্রামে ঢোকার মুখে বাঁশ, গাছ ফেলে রেখে সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীর পথ আটকে দিলেন গ্রামবাসীরা! এই ঘটনা নিয়ে শাসকদলকে বিঁধতে শুরু করেছে বিজেপি।
রবিবার ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচির পঞ্চম দিনে অনুব্রত মণ্ডলের জেলা বীরভূমের চিনপাই পঞ্চায়েত এলাকায় যান বিকাশ। সেখানে এলেমা গ্রামে ঢুকতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, গ্রামবাসীদের একাংশ গ্রামে ঢোকার মুখে বাঁশ, গাছ ফেলে রেখে বিধায়কের পথ আটকে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি দিয়েও গ্রামে পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দেননি বিধায়ক। এক বিক্ষোভকারীর কথায়, ‘‘মাপজোকের কাজও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তাই, বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে রেখেছিল।’’
স্থানীয় সূত্রে দাবি, এই ঘটনার জেরে কিছু ক্ষণের জন্য গ্রামে ঢুকতেই পারেননি বিধায়ক। তবে পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি গ্রামে ঢোকেন। এক গ্রামবাসী বলেন, ‘‘বিধায়ক দশ দিনের মধ্যে পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’’
গ্রাম পরিদর্শনের পর বিকাশ বলেন, ‘‘খানিক ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে এখন গ্রামবাসীরা বুঝেছেন। বিরোধীরা ওঁদের ভুল বোঝাচ্ছেন। এই গ্রামবাসীরা তো আমারই লোক। এঁদের জন্য আমি কাজ করব না! তাই হয় না কি? আমি কথা দিয়েছি, পানীয় জলের সমস্যা আমিই মেটাব।’’ বিক্ষোভের ঘটনার তৃণমূলের একাংশ জড়িয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিকাশ।
ত্রিস্তর পঞ্চায়েত থেকে শুরু রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগসুবিধা না-পাওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, মাস দুয়েক আগে মহিলা তৃণমূলের ‘চলো গ্রামে যাই’ কর্মসূচিতেই তার আঁচ পাওয়া গিয়েছিল। শাসকদলের ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচিতেও তার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। কেউ আবাস যোজনার বাড়ি, বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা না-পাওয়া নিয়ে, কেউ আবার একশো দিনের প্রকল্পে কাজ না-পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন। কেউ কেউ কর্মসংস্থানের দাবিও জানাচ্ছেন। এর আগে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং বীরভূমের দলীয় সাংসদ শতাব্দী রায়। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বিকাশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনায় তৃণমূলকে আক্রমণ করে বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, ‘‘তৃণমূল সব জায়গায় দুর্নীতি করেছে। তাই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে এর প্রভাব দেখা যাবে।’’