Advertisement
E-Paper

আকাল মেটাতে উদ্যোগ

সাত বছরের ছেলে জিৎ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে প্রতি মাসে ছেলেকে রক্ত দিতে রাতের ঘুম উবে যায় লাভপুরের বাসিন্দা, পেশায় ভ্যানচালক উত্তম সরকারের। এক বছর আগে হঠাৎ-ই রক্তাল্পতা ধরে পড়ে লাভপুরের বাসিন্দা প্রিয়ব্রত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী সুজাতাদেবীর। বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করে প্রয়োজনীয় রক্ত জোগাড় করতে দু’দিন গড়িয়ে যায়। রক্ত দেওয়ার আগেই স্ত্রীকে হারান প্রিয়বাবু।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০১৫ ০১:০৩

সাত বছরের ছেলে জিৎ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে প্রতি মাসে ছেলেকে রক্ত দিতে রাতের ঘুম উবে যায় লাভপুরের বাসিন্দা, পেশায় ভ্যানচালক উত্তম সরকারের।

এক বছর আগে হঠাৎ-ই রক্তাল্পতা ধরে পড়ে লাভপুরের বাসিন্দা প্রিয়ব্রত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী সুজাতাদেবীর। বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করে প্রয়োজনীয় রক্ত জোগাড় করতে দু’দিন গড়িয়ে যায়। রক্ত দেওয়ার আগেই স্ত্রীকে হারান প্রিয়বাবু।

রোগে আক্রান্ত ছেলে, স্ত্রী বা নিকট আত্মীয়দের জন্য রক্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে উত্তমবাবুর মতোই যমে-মানুষে টানাটানির হাল হয় লাভপুরেরই সদানন্দ দাস, উৎপল মণ্ডলদেরও। নিজেদের জীবন-যন্ত্রণায় প্রত্যেকেই বুঝেছেন রক্তের মর্ম। রবিবার যাঁদের প্রত্যেকেই নিজেদের রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলেন। লাভপুরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আয়োজনে রক্তদানের এমন অভিনব উদ্যোগে সপরিবারে সামিল হলেন উত্তমবাবুদের মতোই ৪৮ জন।

Advertisement

সংস্থার পক্ষে অনিমেষ চট্টোপাধ্যায়, প্রসূন মণ্ডল এবং সুমন্ত ঘোষ এ দিন বলেন, ‘‘গরমে জেলার হাসপাতালগুলিতে রক্তের আকাল দেখা দিয়েছে। তা মেটাতেই ওঁরা এগিয়ে এসেছেন। ওঁদের দেখে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছি।’’ এ দিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন জেলার সহকারি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সব্যসাচী রায়, লাভপুরের বিডিও জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাস প্রমুখ। তাঁরাও বলছেন, ‘‘নিজেদের জীবন-অভিজ্ঞতা যে মানুষকে এ ভাবে রক্তের সঙ্কট মেটাতে উদ্বুদ্ধ করছে, তা যথেষ্টই ইতিবাচক। অন্যত্রও এর প্রতিফলন ঘটলে রক্তের আকাল অনেকটাই মিটে যাবে।’’ ওই শিবিরে এসে পরে উৎপলবাবু বলেন, ‘‘বছর তিনেক আগে শাশুড়ি সিউড়ি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দ্রুত রক্ত দিতে হতো। কিন্তু, ডোনার জোগাড় করে রক্ত দিতেই সাত দিন লেগে যায়। সে যাত্রায় কোনও রকমে শাশুড়ি বেঁচে গেলেও বুঝতে পারি, জীবনের জন্য রক্ত দেওয়াটা কত মূল্যবান।’’ অন্য দিকে, প্রিয়ব্রতবাবু জানান, সময়মতো রক্ত পেলে স্ত্রীকে তিনি হারাতেন না। রক্তের অভাবে আর কাউকে যাতে প্রিয়জনকে হারাতে না হয়, তার জন্যই তিনি এ দিন এগিয়ে এসেছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy