ভারত-বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উপরেই জোর দিলেন বাংলাদেশের নৌসেনা প্রধান এম ফরিদ হাবিব। দু’দেশের মধ্যে সমুদ্রসীমা, ছিটমহল সমস্যার মীমাংসা অন্য দেশেগুলির কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। শুক্রবার সকালে সস্ত্রীক শান্তিনিকেতন সফরে এসে এ কথা জানান হাবিব। এ দিন তাঁরা রবীন্দ্র ভবন, ছাতিমতলা, পাঠভবন, ঘণ্টাতলা, আম্রকুঞ্জ, শান্তিনিকেতন গৃহ, মহর্ষি প্রদর্শশালা এবং উপাসনা মন্দির ঘুরে দেখেন।
ঘটনা হল, বিশ্বভারতীতে বাংলাদেশ ভবন গড়ে উঠতে চলেছে। তার জন্য ওপার বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করা নকশা হাতে পাওয়া থেকে শুরু করে অনেক দূর এগিয়েছে বাস্তবায়নের কাজ। ইতিমধ্যেই একাধিক প্রতিনিধি দল ঘুরে গিয়েছেন শান্তিনিকেতন। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে সস্ত্রীক শান্তিনিকেতন সফরে এসেছিলেন ওপার বাংলার স্থলসেনা প্রধান। শুক্রবার সস্ত্রীক নৌসেনা প্রধান ঘুরে গেলেন। বাংলাদেশের ওই প্রতিনিধিদের বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য তপতী মুখোপাধ্যায়, শ্রীনিকেতনের অধিকর্তা সবুজকলি সেন রবীন্দ্রভবন এবং আশ্রম এলাকায় রবীন্দ্রনাথের নানা কর্মকাণ্ডের কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওপার বাংলার নৌসেনা প্রধান বলেন, “সত্যিই আমি অভিভূত। আমাদের দেশের প্রত্যেকে মানুষের একটা স্বপ্ন থাকে যে একবার শান্তিনিকেতন আসব।, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত সব জায়গা দেখব। ওই সুযোগ পেয়ে আমি খুশি।’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সাহিত্য দিয়ে দুই বাংলাকে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। আমরা মনে করি, এই বন্ধন সব সময়ে অটুট থাকবে। এটা আমাদের আত্মার সম্পর্ক।”
এ দিন পরে সমুদ্রসীমা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। আপনারা জানেন, স্বাধীনতার সময়ে ভারত আমাদের কী ভাবে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে বলতে পারি, আমাদের নৌবাহিনীর জন্মই হয়েছে ভারতে। স্বাধীনতার সময়ে যেখান থেকে আমাদের পদযাত্রা শুরু।’’ এর পরেই তিনি জানান, সমুদ্রসীমা নিয়ে দু’দেশ যেভাবে জট কাটিয়েছে, তা অন্যদের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ‘‘আমরা দুই নৌবাহিনী একসঙ্গে কাজ করি। আমরা সমুদ্রে পেট্রোলিংও করব একসঙ্গে। সমুদ্রের ইকোনমি থেকে দুই দেশি যেন উপকৃত হয়, সেই জন্যও আমরা কাজ করব।” বিশ্বভারতীকে এ দিন তিনি একটি মেমেন্টো উপহার দেন নৌসেনা প্রধান। প্রথা মেনে বিশ্বভারতীও তাঁর হাতে বিশেষ উপহার তুলে দেয়।