স্টার্ট বলতেই বুকে নম্বর সাঁটা একঝাঁক মেয়ে দৌড় শুরু করল। বেশিরভাগেরই খালি পা। কারও বা পরনে শাড়ি। অধিকাংশের চুড়িদার। তাদের মধ্যেই কেউ কেউ জুতো, হাফপ্যান্ট, টি-শার্ট পরে দৌড়োচ্ছিলেন। সংখ্যাটা কম নয়। কালো চওড়া পিচ রাস্তাটা তখন নানা রঙের পোশাক পরা মহিলা দৌড়বাজদের পায়ের তলায় ঢাকা পড়ে গিয়েছে। পথ যত এগিয়েছে ঝাঁকটা ভেঙেছে। ঘনঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে পা চলেছে সামনের দিকে। দম কমে আসায় অনেকের পা তখন শিথিল। গতিও কমে আসায় পিছিয়ে পড়ছিলেন। তাঁদের দেখতে রাস্তার দু’পাশে ভিড় করেছিলেন বহু মানুষ।
শনিবার পুরুলিয়া জেলা পুলিশ আয়োজিত ম্যারাথন দৌড়ে ৪৯২ জন মহিলা দৌড়লেন। তাঁরা পাঁচ কিমি পথ দৌড়োলেন। পুরুলিয়া-রাঁচি রোডের রায়বাঘিনী ময়দানে মহিলাদের দৌড় শুরু হয়। সেখানে ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। তার কিছুটা আগে ওই রাস্তার বেলকুঁড়ি মোড় থেকে দৌড় শুরু হয় পুরুষদের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার, সাংসদ মৃগাঙ্ক মাহাতো, বিধায়ক কে পি সিংহ প্রমুখ। পুরুষদের আট কিমি দৌড়ে যোগ দিয়েছিলেন সাড়ে তিন হাজার জন। দৌড় শেষ হয় পুরুলিয়া শহরের মানভূম ভিক্টোরিয়া ইন্সস্টিটিউশন ময়দানে।
জেলা পুলিশ আয়োজিত ‘মানভূম ম্যারাথন ২০১৫’ শুরুর সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার পরে শান্তিরামবাবু বললেন, ‘‘জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এই ম্যারাথন জেলার ক্রীড়াবিদ বিশেষত অ্যাথলিটদের উৎসাহ জোগাবে। তাতে জেলার খেলাধুলো সমৃদ্ধ হবে। সেই সঙ্গে পুলিশ যে সমাজের সঙ্গে রয়েছে সেই বার্তাও পৌঁছবে সবর্স্তরে।’’
পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, জেলা পুলিশের উদ্যোগে এই ম্যারাথন দৌড়ে এত সাড়া পাওয়ায় তাঁরা আপ্লুত। আগামী দিনে জঙ্গলমহল ফুটবল প্রতিযোগিতাতেও এই রকমই সাড়া মিলবে বলে তিনি আশাবাদী। উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি (পুরুলিয়া-বাঁকুড়া) বিশাল গর্গ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতো প্রমুখ। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুষদের বিভাগে প্রথম হয়েছেন পাড়া থানা এলাকার জবড়রা গ্রামের শক্তিপদ বাউরি, দ্বিতীয় বলরামপুর থানার কদমডি গ্রামের গোবর্ধন হাঁসদা, তৃতীয় স্থান দখল করেন আড়শার নুনিয়া গ্রামের সার্জেন মাহাতো। মহিলাদের বিভাগে প্রথম হন বলরামপুর থানার কদমডি গ্রামের পিঙ্কি হাঁসদা, দ্বিতীয় বরাবাজার থানার সাপুয়াগোড়া গ্রামের মঙ্গলি বাস্কে ও তৃতীয় বলরামপুর থানার বড়চাতরমা গ্রামের ফুলমণি হেমব্রম। প্রথম তিনজনকে যথাক্রমে দশ, পাঁচ ও তিন হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। চতুর্থ থেকে দশম স্থানাধিকারীদের প্রত্যেককে একহাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। একাদশ থেকে শততম স্থান অধিকার করা প্রতিযোগীদের শংসাপত্র, টি-শার্ট ও মেডেল দেওয়া হয়েছে।
পুরুষদের বিভাগে প্রথম স্থান দখল করা শক্তিপদ বাউরি নিজে পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার। শক্তিপদর কথায়, ‘‘অনুশীলনের সুযোগ পেলে আরও কম সময় লাগত। কিন্তু ঘরের কাজ, চাকরি সামলে অনুশীলনের সুযোগ সে ভাবে মেলে না।’’ মহিলা বিভাগে প্রথম স্থান দখল করা বলরামপুর থানার কদমডি গ্রামের বাসিন্দা পিঙ্কি হাঁসদা বলেন, ‘‘ভাল অনুশীলনের সুযোগ কম। দাদাই দেখিয়ে দেয়।’’ উল্লেখ্য, পিঙ্কির দাদা গোবর্ধন হাঁসদাও পুরুষদের বিভাগে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন।
ম্যারাথনে যোগ দিতে আসা কেন্দার রবণী মাঝি, জয়পুরের অণু বাউরি, নিতুড়িয়ার পিঙ্কি মান্ডি, বরাবাজারের মঙ্গলি বাস্কে প্রমুখের কথায়, এতজনের দৌড়ে যোগ দেওয়াটাই একটা অভিজ্ঞতা। তাঁদের কাছে এই দৌড় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।