বীজ ধান কেনার সময় কয়েক কিলো ধান বাদ দিয়ে চাষিদের কম দাম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠল সোনামুখীতে। এর জেরে শুক্রবার সকালে সোনামুখীর নাচনহাটি গ্রামের কম্প্রিহেন্সিভ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন চাষিরা। পোস্টারও সাঁটলেন অফিসের সামনে।
চাষিদের অভিযোগ, বীজ ধান দেওয়ার সময় তাঁদের জানানো হয়েছিল ৬২ কেজির ধানের বস্তায় বাদ যাবে ২ কেজি। পাওয়া যাবে ৬০ কেজি ধানের দাম। তাঁদের দাবি, টাকা তোলার সময় তাঁরা দেখছেন ৫৭ কেজি বীজ ধানের দাম তাঁদের দেওয়া হচ্ছে। কোনও কোনও চাষির কাটা হচ্ছে আরও আধ কেজি ধানের দাম। কোনও আগাম নোটিস না দিয়ে কেন ৩ কেজি পর্যন্ত ধানের দাম কেটে নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে শুক্রবার তাঁরা ওই অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। নাচনহাটি ছাড়াও বীরচন্দ্রপুর, হুড়ুকতলা, ধুলাই এলাকার প্রায় ৫০ জন চাষি ওই বিক্ষোভে ছিলেন। ক্ষুব্ধ চাষি কুন্তল কোনার, সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘সরকার এক কথা বলে বীজ ধান কিনল। অথচ দাম দিল তার কম! আমরা তা মানব কেন? তার জবাবদিহি চাইতেই আমরা এসেছি।’’
বিষ্ণুপুর মহকুমা কৃষি আধিকারিক হেমন্তকুমার নায়েক বলেন, ‘‘ধান বীজ কেনার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভাবেই দেখেন কেন্দ্রীয় সংস্থা সিএডিসির সেন্টার ইনচার্জরা। এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।’’ ঘটনার কথা জানেন না সোনামুখীর বিডিও রিজিওয়ান আহমেদ। তিনিও জানান, ‘‘বীজ ধান কেনা নিয়ে বিক্ষোভের কথা আমার জানা নেই। খোঁজ নেব।’’ ওই এলাকার সিএডিসি-র সেন্টার ইনচার্জ দেবীপ্রসাদ রায় বলেন, ‘‘ধান নেওয়ার পরে গত ২৯ ডিসেম্বর নতুন এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে চাষিদের নোটিস দেওয়ার মতো সময় হয়নি। অল্প কিছু চাষি মেনে না নিলেও অনেকেই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা তুলেছেন। বিক্ষুব্ধদের সে কথা জানানো হয়েছে।’’