Advertisement
E-Paper

বিয়ের পদ্য ফেরাতে আসরে সংস্কৃতি

‘ছিছি সমীর তোমার কাণ্ড দেখে মরি, সবার সামনে করলে তুমি লোকের মেয়ে চুরি।’ বিয়ের আসরে এহেন মশকরা বন্ধুরা করেই থাকে। কিন্তু কিছু কাল আগেও একেবারে ছাপার অক্ষরেই বিয়ের আসরে প্রাকাশ পেত এরকম নানা ‘শুভেচ্ছা’।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৩৯

‘ছিছি সমীর তোমার কাণ্ড দেখে মরি, সবার সামনে করলে তুমি লোকের মেয়ে চুরি।’ বিয়ের আসরে এহেন মশকরা বন্ধুরা করেই থাকে। কিন্তু কিছু কাল আগেও একেবারে ছাপার অক্ষরেই বিয়ের আসরে প্রাকাশ পেত এরকম নানা ‘শুভেচ্ছা’। উপস্থিত সবার হাতে হাতে বিলি করা হত পদ্য ছাপা কাগজ। সেই সব পদ্য প্রায় বিয়ের আচার অনুষ্ঠানেরই অঙ্গ হয়ে ছিল। আজকাল সেই চল উঠেছে। এমনকী, বিয়ের পদ্যের কথা জানেনও না অনেকে। এই অবস্থায় বিয়ের পদ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হল লাভপুরের বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী।

তবে শুধু বন্ধুদের মশকরা নয়, বিয়ের পদ্য হত নানা রকম। জেলার প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, বিয়ের আসরে বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয় স্বজনেরা এ রকম পদ্য প্রকাশ করতেন। অভিভাবকদের গদ্যে লেখা আশীর্বাদও ছাপা হত। ছড়াকার আশিস মুখোপাধ্যায় এবং কবি নাসিম এ আলম জানান, সেই সময়ে আত্মীয়স্বজন বা পাড়াপড়শির অনুরোধে এ রকম অনেক পদ্যই লিখতে হয়েছে তাঁদের। আশিসবাবু বলেন, বিয়ের পদ্য লিখিয়ে হিসাবে কিছু লোকের এলাকায় বেশ নামডাক থাকত। বিয়ের পদ্য লিখে হাত পাকিয়েছেন অনেক বিখ্যাত কবিই।

তবে সব ক্ষেত্রেই যে এমন হতো তা নয়। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে একটি ছাপাখানা চালিয়ে আসছেন নানুরের স্বপন চৌধুরী এবং সাঁইথিয়ার মহম্মদ সালাউদ্দিন। তাঁরা বলেন, বছর পঁচিশেক আগেও বিয়ের পদ্য ছাপাতে আসতেন অনেকে। অনেক সময় নাম ধাম বদলে দিয়ে একই পদ্য বছরের পর বছর ছাপা হয়েছে। আবার অনেকেই নিজেরাই লিখে আনতেন। ছাপাখানায় এখনও তার কিছু নমুনা রেখে দিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

বিয়ের পদ্যকে আসরে ফেরাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে লাভপুরের বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী। কর্মকর্তারা জানান, সংস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে রয়েছেন ১১৪ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে মাত্র ১০ জন বিবাহিত। তাই কর্মকর্তারা ঠিক করেছেন বাকি সদস্যদের সবার বিয়েতেই পদ্য উপহার দেওয়া হবে। তবে বাকি ১০৪ জন সদস্যের বিয়েতেই আটকে থাকবেন না তাঁরা। তাঁদের আত্মীয় স্বজন, পাড়া পড়শি— যে কোনও বিয়েতে নিমন্ত্রণ মিললেই সেখানে ইস্তাহারের মত বিলি করবেন পদ্য। এমনকী নিমন্ত্রণকর্তারা নিজেরাও যাতে কলম ধরেন সেই জন্যও অনুরোধ করা হবে।

সংস্থার সম্পাদক উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় জানান, ভাবনাটি তাঁদের মাথায় আসে এক বিয়ের অনুষ্ঠানেই। সম্প্রতি এক সদস্যের বিয়েতে আর এক কবি সদস্য উপহার হিসাবে নিজের লেখা কবিতা ফ্রেমে বাঁধিয়ে নিয়ে হাজির হন। সেই কবিতা পাঠ করা হয় আসরে। আর তাতেই সাড়া পড়ে যায়। কথায় কথায় প্রবীণদের পুরনো দিনের স্মৃতি উসকে ওঠে। তাঁরা বিয়ের পদ্যের গল্প করেন সবার কাছে। সেই থেকেই উদ্যোগের শুরু।

তবে সদ্য গাঁটছড়া বাঁধতে চলা এক অবিবাহিত সদস্য গোপনে জানান, বিয়েতে পদ্য লিখে বন্ধুবান্ধবরা কী মশকরা করবে তা নিয়ে বেশ চিন্তাতেই রয়েছেন তাঁরা। সে নিয়ে জিজ্ঞেস করতে, বিয়ের আগে একটু বেশিই বুক দুরুদুরু করছে, জানালেন তিনি।

দরপত্র বাতিল। পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজে দরপত্র জমা দিতে গিয়ে বাধা পেয়েছিলেন ঠিকাদারেরা। বিডিও-র কাছে অভিযোগও জানান তাঁরা। তদন্তে বেশ কিছু গরমিল পেয়ে কাঁকসার গোপালপুরের ওই দরপত্রগুলি বাতিলের নির্দেশ দিলেন বিডিও।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তা সারাই থেকে নিকাশির নানা কাজের জন্য ছ’টি দরপত্র ডাকা হয়েছিল। আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছিল ৪০ লক্ষ টাকা। সেই মতো একাধিক ঠিকাদার দরপত্রের কাগজ তুলে জমা দিতে যান পঞ্চায়েতের কার্যালয়ে। কিন্তু ৭ ডিসেম্বর দরপত্র জমা দিতে গিয়ে তাঁরা বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। ঠিকাদারদের দাবি, পঞ্চায়েত কার্যালয়ের কাছাকাছি যেতেই তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। কয়েকজন যুবক ধাক্কাধাক্কি করে বের করেন দেন তাঁদের। নিগ্রহের অভিযোগও করেন তাঁরা। ঠিকাদার মনতোষ পালের দাবি, দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পঞ্চায়েতে তা জমা দিতে গেলে এলাকার কয়েকজন তাঁদের উপর চড়াও হন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy