Advertisement
E-Paper

মিস্ত্রির কাজ করেও চমকে দিয়েছে রাহুল

অভাবের সংসার টানতে টানতে বছর চারেক আগে বাবা চলে গিয়েছেন। মা পরের বাড়িতে মুড়ি ভেজে কোনও রকমে সংসার চালান। তাঁদেরই ছেলে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৬১ (বাংলা-৯৬, ইংরাজী-৯০, ভূগোল-৯০, সংস্কৃত ৯০, দর্শন-৯৬ ও চতুর্থ বিষয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৬০) পেয়ে সকলকে অবাক করে দিয়েছে। কিন্তু ছেলের রেজাল্টে সংসারে একদিকে চাপা আনন্দের স্রোত, অন্যদিকে বিষন্নতার ছাপ স্পষ্ট।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০১৫ ০১:২৬
রাহুল মিস্ত্রি।—নিজস্ব চিত্র।

রাহুল মিস্ত্রি।—নিজস্ব চিত্র।

অভাবের সংসার টানতে টানতে বছর চারেক আগে বাবা চলে গিয়েছেন। মা পরের বাড়িতে মুড়ি ভেজে কোনও রকমে সংসার চালান। তাঁদেরই ছেলে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৬১ (বাংলা-৯৬, ইংরাজী-৯০, ভূগোল-৯০, সংস্কৃত ৯০, দর্শন-৯৬ ও চতুর্থ বিষয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৬০) পেয়ে সকলকে অবাক করে দিয়েছে। কিন্তু ছেলের রেজাল্টে সংসারে একদিকে চাপা আনন্দের স্রোত, অন্যদিকে বিষন্নতার ছাপ স্পষ্ট। কার্যত, এই কারণেই উচ্চশিক্ষাই এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ঝাড়খণ্ড প্রান্তিক গ্রাম মুরালপুরের রাহুল মিস্ত্রির।

রাহুলের ভরসা, যদি কোনও সহৃদয় ব্যক্তি তার পড়াশুনার ব্যাপারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তবেই তার পড়াশোনা সম্ভব। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পাঁচ জনের সংসার ছিল মুরালপুরের বাসিন্দা পেশায় ছুতোর মিস্ত্রি পার্থসারথি মিস্ত্রির। চাষ জমি বলতে এক বিঘে শুখা জমি। বর্ষা ভাল হলে বছরে একবার ধান। না হলে সংসারে চরম অনটন। এমনই এক পরিস্থিতিতে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়েন পার্থসারথিবাবু।

‘‘তখন আমি বলিহারপুর হাইস্কুলে ক্লাস এইটে পড়ি। বলতে বলতেই কেঁদে ফেলে রাহুল। একটু থেমে বলে, বাবা মারা যাওয়ার পরও পড়াশুনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। সে সময় মা সাহস যুগিয়ে বলেছিলেন, আমি পরের বাড়িতে মুড়ি ভেজে কাজ করেও তোদেরকে পড়াবো। যদি তোরা পড়তে চাস। মায়ের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকরাও সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। বিশেষ করে সহ প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়।’’

Advertisement

রাহুল পড়াশুনার পাশাপাশি মা ও তিন ভাই বোনের সংসারে সাহায্য করতে কাকাদের সঙ্গে ছুতোর মিস্ত্রির কাজ করে। মা চিত্রাদেবী বলেন, ‘‘স্বামী চলে যাওয়ার পর একদিকে তিনটে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে। অন্যদিকে হঠাৎ করে সংসারের ছাদ চলে যাওয়া। দু’ বেলা অন্নের জন্য আমি পরের বাড়িতে মুড়ি ভাজতে শুরু করি। আর রাহুল স্কুল করার পরে সপ্তাহে চারদিন কাকাদের সঙ্গে ছুতোর মিস্ত্রির কাজ করে সপ্তাহে ৩২০ টাকা পেত।’’

স্কুল থেকে ফিরে বাকি তিনদিন পাশের গ্রাম নবগ্রামের স্কুল শিক্ষক তরুন কুমার প্রামানিকের কাছে পড়তে যেত রাহুল। তিনি স্বেচ্ছায় রাহুলের সমস্ত বিষয়ই দেখিয়ে দিতেন। শিক্ষকরা বই খাতা সহ সমস্ত রকম সহযোগিতা করেছেন। চিত্রাদেবী বলেন, ‘‘সকলের সাহায্যে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা ও ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখন? এবারতো পড়ার খরচ অনেক। তাই ছেলের পাস করা বা ভাল রেজাল্ট করায় আমার দুশ্চিন্তা বেড়ে গিয়েছে। কেউ সাহায্য না করলে ওর উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিৎ হয়ে পড়বে।’’ রাহুলের এক ভাই রহিত দশম শ্রেণি ও মেয়ে কৃষ্ণা সপ্তম শ্রেণিতে ওই স্কুলেই পড়ে। তাঁরাও পড়ায় ভালো। কিন্তু কতদিন পড়া চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, সে চিন্তা সকলেরই।

মায়ের কথার রেশ ধরে রাহুল বলে, ‘‘আমার ইচ্ছা বিশ্বভারতিতে পড়ার। উচ্চ শিক্ষা লাভ করে তরুনবাবুর মত আদর্শ শিক্ষক হয়ে কলেজে পড়ানো ও গবেষণা করা।’’ তরুনবাবুর পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষিকা মিতালী ব্রহ্মা তাকে টিফিনের সময় তাকে ভুগোল দেখাতেন। রাহুলের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে চিন্তায় তিনিও।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মৈনাক দে ও সহকারি প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাহুল ৪৬১ পেয়েছে। রাহুল একা নয় ওর ভাই বোনও পরাশুনায় ভাল। আমরা চাই কোনও প্রতিষ্ঠান বা কোনও ব্যক্তি রাহুলকে সাহায্য করুক। আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।’’

মহম্মদবাজারের বিডিও সুমন বিশ্বাস বলেন, ‘‘এলাকার সমস্ত দুস্থ মেধাবী ছাত্র ছাত্রীকে যতটা সম্ভব সরকারি সাহায্য করা হবে।’’

হনুমানের তাণ্ডব। হনুমানের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ বনগাঁ শহরের বাটারমোড় এলাকার ব্যবসায়ীরা। দিন পনেরো আগে হঠাৎ করে একটি হনুমান এলাকার বিভিন্ন দোকানে ঢুকে পড়ে। তারপর থেকেই মাঝে মধ্যেই সে দোকানে হানা দিচ্ছে। ব্যবাসীরা জানান, মূলত বিকেল চারটের পর হনুমানটি আসছে। ইতিমধ্যেই চারজন ব্যবসায়ী জখম হয়েছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy