রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের হাজিরা পদ্ধতিতে কিছুটা বদল আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নবান্নের কর্মী-আধিকারিকদের জন্য বিশেষ একটি হাজিরা অ্যাপ চালু হতে পারে। পরে বাকি সরকারি কার্যালয়গুলিতেও সেই অ্যাপ চালু হওয়ার কথা। নবান্নে এখন সকাল সওয়া দশটার মধ্যে হাজিরা বাধ্যতামূলক। বেরোতেও হয় নির্দিষ্ট সময় পার করেই। পরপর তিন দিন এর হেরফের ঘটলে তা একটি নৈমিত্তিক ছুটি (ক্যাজুয়াল লিভ) কাটার সম্ভাবনা তৈরি করে। ফলে এখন নবান্নে ঢুকেই হুড়োহুড়ি পড়ে হাজিরা দেওয়ার জন্য।
নবান্নের একতলায় যে ক’টি লিফট আছে তাতে একসঙ্গে অত লোকের উপরের তলাগুলিতে যাওয়া অসম্ভব। তাই লাইন দিয়ে লিফটে চড়ে দফতরে পৌঁছে ‘ফেস রেকগনিশন’ যন্ত্রের মাধ্যমে হাজিরার সময় এদিক-ওদিক হয়ে যায় প্রায়ই। সময়ের মধ্যে অফিস চৌহদ্দিতে ঢুকলেও হাজিরা নথিবদ্ধ করতে অতিরিক্ত সময় লেগে যাওয়াটা কর্মীদের সমস্যা বাড়াচ্ছে। এই অবস্থাতেই হাজিরা-অ্যাপ চালুর ভাবনাচিন্তা চলছে। তার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজও শুরু হয়েছে।
সব ঠিক থাকলে আগামী দিনে ওই অ্যাপের মাধ্যমেই হাজিরা হতে পারে। অফিস চৌহদ্দির ১০০ মিটারের মধ্যে থাকলে তবেই সেই অ্যাপটি সক্রিয় হবে। তাতে নিজের মোবাইল থেকেই হাজিরা নিশ্চিত করতে পারবেন যে কোনও কর্মচারী। নবান্নের মূল প্রবেশদ্বার থেকে লিফট পর্যন্ত যে দূরত্ব, তা ১০০ মিটারের মতোই। তাই এই অ্যাপ সক্রিয় হতে হলে নবান্ন চৌহদ্দির মধ্যেই থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রশাসনও বুঝবে, অফিসের মধ্যে থেকেই সেই সরকারি কর্মচারী নিজের হাজিরা নিশ্চিত করেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)