প্রশাসনের কাজে ব্যবহৃত গাড়ির খরচে রাশ টানতে চায় রাজ্য সরকার। দিন দিন যে ভাবে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাতে সরকারি প্রশাসনে গাড়ি ব্যবহারের খরচের বহরও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এ বার সেই খরচের উপর রাশ টানতে চায় রাজ্য। কলকাতা তো বটেই, জেলা থেকেও সম্প্রতি কিছু অভিযোগ এসেছে নবান্নে। সেই অভিযোগগুলিতে বলা হয়েছে, আইন না মেনে গাড়িতে যথেচ্ছ ভাবে বাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত গাড়ির ব্যবহারের অভিযোগ যেমন প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খরচ যে পরিমাণ বেড়েছে, তাতে কড়া পদক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে বলেই মত পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিকের।
আরও পড়ুন:
সরকারি প্রশাসনে গাড়ির খরচে রাশ টানার উদ্যোগ নতুন কোনও বিষয় নয়। এর আগেই এ বিষয়ে নীতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা কখনওই কার্যকর হয়নি। সেই সময় নিয়ম করা হয়েছিল, যুগ্ম সচিব ও তাঁদের নিচু তলার অফিসারদের জন্য পুলকারের বন্দোবস্ত করা হবে। সবাইকে আলাদা আলাদা গাড়ি না দিয়ে বেসরকারি সংস্থায় প্রচলিত নিয়মের মতো একটি গাড়িতে এক দল কর্মীকে অফিসে আনা হবে এবং বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে আসা হবে। কিন্তু সেই নিয়ম থেকে গিয়েছে কাগজ-কলমেই। এ বার সেই নিয়ম কড়া ভবে কার্যকর করার পথে অগ্রসর হতে চলেছে রাজ্য সরকার।
সরকারি আধিকারিকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়চড়ে বসে প্রশাসন। গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার রুখতে খরচের লক্ষণরেখা বেঁধে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভাড়া বাবদ মাসে সরকার খরচ করবে গাড়ি-পিছু সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা। শনি-রবি ও ছুটির দিন বাদ দিলে মাসে গাড়ি দরকার হয় প্রায় কুড়ি দিন। সেই হিসাবে গড়ে প্রতি দিন গাড়ির জন্য বরাদ্দ হচ্ছে। কারণ প্রসঙ্গে পরিবহণ দফতরের আধিকারিক বলেন, ‘‘প্রতিদিন বেড়েই চলেছে জ্বালানি তেলের দাম। কিন্তু লাগাম নেই সরকারি গাড়ির ব্যবহারে। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের একটি মহলের গাড়ির বেহিসাবি খরচ নিয়ে। তাই গাড়ির ব্যবহার নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করেই খরচে লাগাম টানতে চাইছে রাজ্য সরকার, যাতে রাজ্যের কোষাগারের অর্থের অপব্যয় না ঘটে।’’