শোকসন্তাপ, আনন্দ-উৎসব, জরা-ব্যাধি, সব মিলেমিশে একাকার। সকলেই লাইনে। সৌজন্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন, এসআইআর। মঙ্গলবার রাজ্যের তিন জেলায় তিন ভোটারকে দেখা গেল তিন অবস্থায়।
হুগলির শ্রীরামপুরের কেসি সেন রোড অম্বেডকর সরণির বাসিন্দা পাপিয়া সাহা রায়। শ্রীরামপুর বিধানসভার ২৭০ নম্বর বুথের ভোটার প্রৌঢ়ার স্বামী গত হয়েছেন রবিবার রাতে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মানব রায়। স্বামীর মৃত্যুশোকের মধ্যে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে সদ্যবিধবা দাঁড়িয়েছেন শুনানির লাইনে। বুধবার সাদা থানা পরে এসআইআর শুনানিতে হাজির হলেন প্রৌঢ়া। ধীরে ধীরে বললেন, ‘‘ওর সঙ্গেই শুনানিতে আসার কথা ছিল। হঠাৎ করে একা করে দিয়ে চলে গেল!’’ অশৌচের মধ্যেও ছাড়় পাওয়া গেল না? বিধবা বলেন, ‘‘আবার অন্য কোনও দিন শুনানির তারিখ দেবে কি না, জানি না। ঝুঁকি নিলাম না।’’
বৃদ্ধার অবস্থা দেখে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে তোপ দাগে তৃণমূল। শাসকদলের কটাক্ষ, মানুষের জন্য এসআইআর। তাই মানুষকেই হয়রানি করতে হবে। এতেই নাকি দেশের মঙ্গল! এ নিয়ে বিজেপির তরফে কেউ কোনও মন্তব্য করেনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের আনোয়ার হোসেন খান জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনেই দৌড়োলেন শুনানিকেন্দ্রে। তাঁর সঙ্গে আরও ৩৮ জন। এসআইআরের নামে হয়রানির অভিযোগ করেন সমস্বরে।
ডায়মন্ড হারবার-১ ব্লকের বোলসিদ্ধি কালীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আনোয়ারের বিয়ে মঙ্গলবার। মঙ্গলবারই শুনানিতে ডাক পড়ে তাঁর। বিয়ের শেরওয়ানিতেই শুনানিকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়ালেন হবু বর। শুধু আনোয়ারই নন, বরযাত্রীদের মধ্যেও মোট ৩৮ জন এই একই দিনে শুনানির জন্য লাইনে ছিলেন। বিয়ের আয়োজন ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু করার তো কিছু নেই! বললেন হতাশ বর।
আরও পড়ুন:
মুর্শিদাবাদের নওদার শ্যামনগরে বাড়ি মাজেরা বেওয়ার। বৃদ্ধার বয়স ১০৪ বছর। ঝুঁকে হাঁটেন। বুধবার লাঠি ঠুকিয়ে ঠুকিয়ে তিনিও হাজির হয়েছিলেন শুনানিকেন্দ্রে। ফোকলা হাসি হেসে বৃদ্ধা বললেন, ‘‘আমার ছয়ের বেশি সন্তান। তাই ডাক এসেছে। প্রমাণ দিতে হবে তাদের সকলকে পেটে ধরেছিলাম।’’
বুধবার দুপুর পর্যন্ত রাজ্যে আরও তিনটি মৃত্যুর খবর মিলেছে। প্রত্যেক পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কে প্রাণহানি হয়েছে। নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা আহিবা শেখ (বিবি) মারা গিয়েছেন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে। পরিবারে দাবি, শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর থেকে আতঙ্কিত ছিলেন প্রৌঢ়া। মঙ্গলবার কল্যাণীর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক চাপানউতর চলছেই।
কোচবিহারের মাথাভাঙা, শীতলখুচির পর দিনহাটায় ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মারা গিয়েছেন এক ব্যক্তি। দিনহাটা-২ ব্লকের নাজিরহাটের শিকারপুরের ৭/২১ নম্বর বুথের ভোটার মিঞার মৃত্যুতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, ‘‘আমার দিনহাটা-সহ গোটা রাজ্যে মানুষ মরছে। কারণ, এসআইআর। এর জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন।’’
মালদহের নিকচকের নুরপুর নিচু তিওরপাড়ার এলাকার শেখ শরিফুলের মৃত্যুর নেপথ্যে এসআইআরকে দায়ী করেছে পরিবার। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় শরিফুলের নাম ঠিকই ছিল। কিন্তু দুই পুত্রের ভোটার কার্ডে পিতার নামের বানান ভুলের কারণে বাড়িতে যায় এসআইআর নোটিস। মঙ্গলবারই ছিল শুনানির দিন। তার আগেই মারা গেলেন শরিফুল
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা