মাস কয়েক আগে, রাঁচির কাছে ধরা পড়েছিল খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তরিকুল ইসলাম। এনআইএ-এর এক শীর্ষকর্তা বলছেন, ‘‘এই তরিকুল ওরফে সাদিক যে জেএমবি-র এত বড় চাঁই, সেটা আমরা গোড়ায় জানতাম না, পরে বুঝেছি। তেমনই বীরভূমের নানুরের কদর কাজী যে জেএমবি-র প্রথম সারির নেতা, সেটাও ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে।’’
আর সেই জন্যই কদর কাজীকে ধরিয়ে দিতে পারার আর্থিক মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে এ বার দশ লক্ষ টাকা হতে চলেছে বলে এনআইএ-র একটি সূত্রের খবর। বীরভূমে জেএমবি-র ঘাঁটি তৈরি করা এই কদর কাজীই একা নয়, বর্ধমানের মঙ্গলকোটের বুরহান শেখও এখন আরও ‘দামি’ হয়ে গিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দাদের কাছে। এক তদন্তকারী অফিসার জানান, বুরহানকে পেতে পুরস্কারমূল্য তিন লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করা হতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার চার্জ গঠন করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় এনআইএ। গত ১৪ ডিসেম্বর আদালতে ওই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অথচ ওই বিস্ফোরণ মামলার ডজন খানেক অভিযুক্ত এখনও ফেরার। গোয়েন্দারা স্বীকার করে নিচ্ছেন, মাঝেমধ্যে ওই পলাতক অভিযুক্তদের একাংশ বাংলাদেশ ও ভারতে বেআইনি ভাবে পারাপার করলেও তাদের ধরা যায়নি। অনেক সময়েই কোনও অভিযুক্ত একটি ঘাঁটি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর এনআইএ-র কাছে খবর আসছে।
পলাতকদের হাতে পাওয়ার অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নতুন ভাবে পুরস্কারমূল্য নির্ধারণ করতে চলেছে এনআইএ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অর্থমূল্য বাড়ছে। তবে তদন্তকারীদের একাংশের বক্তব্য, কেবল এক জনের জন্য ঘোষিত পুরস্কারমূল্য কমতে পারে। যার নাম এনআইএ-র ওয়ান্টেডদের তালিকায় তালহা শেখ রয়েছে। কারণ, এনআইএ জেনেছে, তালহা শেখ নামে যাকে তারা এত দিন ধরে খুঁজছে, সে আসলে শ্যামল। আসল তালহা শেখ জেএমবি-র বড় পাণ্ডা, সে এখন বাংলাদেশের জেলে বন্দি। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত এনআইএ শুরু করার পর, ২০১৪-র অক্টোবরে প্রকাশিত, ওয়ান্টেডদের তালিকায় উল্লেখ আছে, তালহা শেখকে ধরতে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারলে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার মিলবে। সেটাই কমে পাঁচ লক্ষ টাকা হতে পারে বলে এনআইএ-র একটি সূত্রের খবর।
গোয়েন্দারা জানান, ফেরার অভিযুক্তদের ধরতে আগে পোস্টার ছাপিয়ে সাঁটা হয়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। এ বার সেই সব পোস্টারের আকারও বড় হচ্ছে, ছাপাও হবে সংখ্যায় অনেক বেশি— কয়েক হাজার তো বটেই। এই রাজ্যের বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়া, মালদহের মতো যে সব জেলায় জেএমবি-র ঘাঁটি কিংবা আনাগোনা ছিল, সে সব জেলায়, এমনকী হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে এবং কলকাতার বিভিন্ন প্রবেশপথ ও সল্টলেকের বিভিন্ন তল্লাটে পোস্টার লাগানো হবে।
ইতিমধ্যে কলকাতায় এনআইএ-র বিশেষ আদালতের বিচারক ফেরার দশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছেন। সেই নোটিস প্রত্যেকের ঠিকানায় লটকেও দিচ্ছে পুলিশ। ফেরারদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি নাগিরক, তাদের এখানকার ডেরায় সেই নোটিস দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার যেমন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার হাটপাড়ায়, বাংলাদেশি নাগরিক নাসিরুল্লার ডেরার বন্ধ দরজায় ওই নোটিস আটকে দেয় পুলিশ। কিন্তু এত করেও ফেরারদের ধরা কি সম্ভব হবে? ‘‘আমরা চেষ্টার কোনও কসুর করছি না, বাকিটুকু তো আমাদের হাতে নেই’’— বলছেন এনআইএ-র এক কর্তা।