Advertisement
E-Paper

উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ সুরক্ষায় ‘উড়ন্ত পাহারাদার’ পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া! মোতায়েন করা হচ্ছে ‘ই-৭ ওয়েজটেল’?

অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ় জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির আকাশসীমাকে নিশ্ছিদ্র করে তুলতে ফ্লাইং রেডার ‘ই-৭ ওয়েজটেল’ নামে শক্তিশালী নজরদারি বিমান পাঠানো হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ১৫:০১
অস্ট্রেলিয়ার ‘ফ্লাইং রেডার’। ছবি: সংগৃহীত।

অস্ট্রেলিয়ার ‘ফ্লাইং রেডার’। ছবি: সংগৃহীত।

উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা রক্ষা করতে এ বার ‘উড়ন্ত পাহারাদার’ পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ় এমনটাই জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমায় নজরদারি চালাবে এই ‘উড়ন্ত পাহারাদার’। শুধু তা-ই নয়, প্রতিপক্ষের কোনও ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার চেষ্টা করলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবে সেই ‘পাহারাদার’।

অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ় জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির আকাশসীমাকে নিশ্ছিদ্র করে তুলতে ফ্লাইং রেডার ‘ই-৭ ওয়েজটেল’ নামে শক্তিশালী নজরদারি বিমান পাঠানো হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে চার সপ্তাহের জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে এই বিমান। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, বাহরিনের মতো দেশগুলিতে লাগাতার হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এ বার ইরানকে রুখতে অস্ট্রেলিয়াও ওই দেশগুলির পাশে দাঁড়াল।

প্রসঙ্গত, বার বার হামলার মুখে পড়ে সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ়ের আলোচনা হয়। আর তার পরই পশ্চিম এশিয়ায় ফ্লাইং রেডার ‘ই-৭ ওয়েজটেল’ সামরিক বিমানকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ২৪ হাজারের মতো অস্ট্রেলীয় থাকেন। তাঁদের দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সুরক্ষার খাতিরেই এই সিদ্ধান্ত। আলবানিজ় জানিয়েছেন, ইরানের প্রায় ১৫০০টি রকেট এবং ড্রোন হামলা রুখে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। এ ছাড়াও আলবানিজ় জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে সামরিক অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করবে অস্ট্রেলিয়া। ইরানকে রুখতে মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে। তবে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমার সরকারের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ পশ্চিম এশিয়ায় অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখা। অস্ট্রেলীয়দের নিরাপত্তা মানেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলিরও নিরাপত্তা।’’ তবে এই অঞ্চলের অস্ট্রেলিয়া আক্রমণ প্রতিহত করার কাজ চালিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় হাঁটবে বলেও জানিয়েছেন আলবানিজ়।

‘ই-৭ ওয়েজটেল’ কী?

এটি একটি ‘এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল এয়ারক্র্যাফ্ট’। শুধু তা-ই নয়, এই বিমানটি অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্রভান্ডারের শক্তিশালী সমরাস্ত্র। এটি বোয়িং ৭৩৭-৭০০ সিরিজ়ের বিমান। কিন্তু ওয়েজটেলকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত করে রণক্ষেত্রে ব্যবহারের মতো করে গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিমানে রয়েছে দূরপাল্লার রেডার ব্যবস্থা। ফলে বড় অঞ্চল জুড়ে নজরদারি চালাতে সক্ষম। এই বিমানে রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান মাল্টি-রোল ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যান্‌ড অ্যারে (মেসা) রেডার। যেটি বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে দেয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার কাছে এ রকম ছ’টি ‘ই-৭ ওয়েজটেল’ বিমান রয়েছে।

Australia Radar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy