ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করেছে আমেরিকান বাহিনী। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পর পর দু’টি বিবৃতি দিয়েছে চিন। দ্বিতীয় বিবৃতি এসেছে রবিবার সকালে। অবিলম্বে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বেজিং। কোনও ভাবেই যাতে ভেনেজ়ুয়েলার সরকারের পতন না-ঘটে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
চিনের বিদেশ মন্ত্রক রবিবার জানিয়েছে, জোর করে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে দেশ থেকে বার করে নিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ভেঙেছে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাধারণ নিয়ম, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের উদ্দেশ্য এবং নীতির সঙ্গে এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ নিয়ে বেজিং উদ্বেগে রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আমেরিকাকে। অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। ভেনেজ়ুয়েলার সরকার ভেঙে দেওয়া চলবে না। আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাগুলির সমাধান করতে হবে।’’
আরও পড়ুন:
শনিবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজ়ুয়েলার আক্রমণ এবং মাদুরোর অপহরণের কথা ঘোষণা করেন। শোয়ার ঘর থেকে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রথমে তাঁদের নেওয়া হয় মার্কিন জাহাজে। তার পর সেখান থেকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় নিউ ইয়র্কে। রবিবার সকালে (ভারতীয় সময়) ব্রুকলিনের ডিটেনশন ক্যাম্পে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে রেখেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস থেকে সেই ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে। বন্দি হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মাদুরো বলেছেন পাঁচটি শব্দ— ‘‘গুড নাইট। হ্যাপি নিউ ইয়ার।’’
মাদুরোর অপহরণের খবরে শনিবার রাতে প্রথম বার মুখ খুলেছিল চিন। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমেরিকার এমন শক্তিপ্রয়োগ এবং দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করা হয়েছিল। মার্কিন পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘‘আমেরিকার এমন আধিপত্যবাদ আন্তর্জাতিক আইন, ভেনেজ়ুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান প্রদেশের নিরাপত্তা লঙ্ঘনকারী। চিন কঠোর ভাবে এর বিরোধিতা করছে। আমেরিকা আমেরিকার কাছে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ মেনে চলার দাবি জানাচ্ছি। অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা লঙ্ঘন করা বন্ধ করো।’’ তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিতীয় বিবৃতিটি এল।