আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গানের স্কুল। ইরানের সেই ছাদ খসে পড়া, ভাঙা ভবনের মধ্যে শান্ত ভাবে বসে এক মনে কামাঞ্চে (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) বাজাচ্ছেন এক যুবক। বিষাদের সুর উঠেছে তাঁর বাদ্যযন্ত্রে। হৃদয়বিদারক সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিয়োয় যে যুবককে দেখা যাচ্ছে তাঁর নাম হামিদরেজ়া আফারিদে। তিনি ইরানের এক জন সঙ্গিতশিল্পী এবং সুরকার। কামাঞ্চে বাদক হিসাবে সুনাম রয়েছে তাঁর। ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া তাঁর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষের ভিতরে বসে কামাঞ্চে বাজাতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি এ-ও বলেন, “আমি চেয়েছিলাম এখানে শেষ যে ধ্বনিটি অবশিষ্ট থাকবে, তা যেন সঙ্গীতের হয়, বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্রের নয়।”
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে শান্ত ভাবে বসে রয়েছেন হামিদরেজ়া। ভবনটি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ছাদের কিছু অংশ ভেঙে গিয়েছে। বৈদ্যুতিন তার ঝুলছে। মেঝেয় কংক্রিটের টুকরো ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ভাঙা দেওয়াল এবং জানলা দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করায় ধ্বংসযজ্ঞ আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। আর এই সব কিছুর মাঝে মেঝেয় বসে এক মনে কামাঞ্চে বাজাচ্ছেন হামিদরেজ়া। তাঁকে অবিচলিত ও শান্ত দেখাচ্ছে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করেছেন ইরানীয় সাংবাদিক এবং লেখক আলিরেজা আকবরি। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সুরকার ও কামাঞ্চে বাদক হামিদরেজ়া আফারিদে তাঁর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপের উপর বসে রয়েছেন।’’ ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, “অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তিনি সৃষ্টিকে বেছে নিয়েছেন। যুদ্ধের চেয়েও বেশি দিন টিকে থাকে সঙ্গীত। তার সৌন্দর্যকে স্তব্ধ করা যায় না।” অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে এতগুলো স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হৃদয়বিদারক।”
কয়েক দিন আগে, সমাজমাধ্যমে একই ধরনের আর একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছিল। তেহরানের পূর্বে অবস্থিত দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে মাটিতে বসে সঙ্গীত পরিবেশন করতে দেখা গিয়েছিল ইরানি সুরকার আলি ঘামসারিকে।