ভেনেজ়ুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ছাড়ানোর জন্য আমেরিকার উপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে চিন। এ বার তা নিয়ে মুখ খুললেন চিনের প্রেসিডেন্ট খোদ শি জিনপিংও। সোমবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি বিশ্বের বর্তমান ‘অস্থিরতা’ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। জানিয়েছেন, একতরফা আধিপত্যবাদে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরাসরি আমেরিকার নাম না-করলেও জিনপিং পরোক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
জিনপিং বলেন, ‘‘বর্তমানে বিশ্ব যে ধরনের পরিবর্তন এবং অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা এক শতাব্দীতেও দেখা যায়নি। একতরফা আধিপত্যবাদ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কোনও দেশের জনগণ যে উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছেন, সকল রাষ্ট্রের উচিত তাকে সম্মান করা। আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ মেনে চলা উচিত সকলের। বিশেষত বৃহৎ শক্তিগুলির উচিত এ ক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া।’’
আরও পড়ুন:
ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার আক্রমণ এবং প্রেসিডেন্ট হরণ নিয়ে প্রথম থেকেই সরব চিন। তাদের বিদেশ মন্ত্রক একাধিক বিবৃতি জারি করেছে। সোমবারও অবিলম্বে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বেজিং। তবে জিনপিং নিজে এত দিন চুপ ছিলেন। এ বার তিনিও মুখ খুললেন।
ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার হামলা প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চিনের বিদেশ মন্ত্রক। সেই সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার খনিজ তেল নিয়ে চিনের অবস্থান আগামী দিনে কী হবে, তা-ও জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়াং বলেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর অপহরণ নিয়ে চিন গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’’ মাদুরোর অপহরণের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেস আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ভেনেজ়ুয়েলার এই অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে চিন যোগাযোগ রেখেছে। কারাকাসের সঙ্গে বেজিঙের ইতিবাচক কথোপকথন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লিন।
ভেনেজ়ুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম তৈলভান্ডার। আর চিন তাদের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মাদুরোর অপহরণের পর আমেরিকা দাবি করেছে, সেখানকার তৈলভান্ডারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে তারা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তৈলভান্ডারে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ যে বাড়বে, তা সহজেই অনুমেয়। তার পরেও কি চিন সেখান থেকেই তেল আমদানি চালিয়ে যাবে? সোমবার এই প্রশ্ন করা হয়েছিল বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রকে। লিন সরাসরি তেলের কথা বলেননি। বলেছেন, ‘‘ভেনেজ়ুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতাকে সম্মান করে চিন। দু’টি সার্বভৌম দেশের মধ্যে যে সহযোগিতার সম্পর্ক থাকে, আমাদের মধ্যেও তা রয়েছে। এই সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের অভ্যন্তরীণ আইন দ্বারা সুরক্ষিত। আমাদের বিশ্বাস, ভেনেজ়ুয়েলা সরকার তাদের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি সামাল দেবে।’’