Advertisement
E-Paper

‘নিজেদের পরাজয় ঢাকতে তাকে সমঝোতা বলে চালানোর চেষ্টা করবেন না’! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খোঁচা ইরানের

আইআরজিসি-মুখপাত্রের কটাক্ষ, নিজেকে বিশ্বের মহাশক্তি হিসাবে দাবি করা আমেরিকা যদি প্রকৃতই মহাশক্তিধর হত, তা হলে এত দিনে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪৩
(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। (ডান দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। (ডান দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর গলায় ঘোষণা করেছিলেন, ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। আলোচনা চলছে। তবে তাদের সামনে ১৫ দফা শর্তও রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সেনা রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিল, ‘‘নিজেদের পরাজয়কে সমঝোতা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।’’ আর এখান থেকেই আলোচনা জোরালো হতে শুরু করেছে, তা হলে ট্রাম্প যে শান্তি আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির দাবি করছেন, সেটার কি কোনও ভিত্তি নেই। আইআরজিসি-র বিবৃতি আসার পরেই অনেকেই মনে করছেন, সমঝোতার রাস্তাটা এত মসৃণ নয়।

আল জাজ়িরা-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার যে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট করেছেন, তা তেহরান স্বীকার করে না। তার পরই ইরান সেনার তরফে বলা হয়, ‘‘নিজেদের পরাজয়কে ঢাকতে গিয়ে বিষয়টিকে সমঝোতা বলে চালানোর চেষ্টা করবেন না। এই অঞ্চলে কর্তৃত্ব ফলানোর চেষ্টা কোনও ভাবেই মেনে নেবে না তেহরান। আমরা এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই, পরিস্থিতি তত ক্ষণ ঠিক হবে না, যত ক্ষণ না আমরা চাইব। এটাই আমাদের প্রথম এবং শেষ কথা।’’ আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, ‘‘কোনও শর্তের কাছে মাথা নোয়াবে না তেহরান। বর্তমানে নয়, আগামী দিনেও নয়।’’ এর পরই ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফিকারি বলেন, ‘‘আপনার মতো ব্যক্তির সঙ্গে কোনও মতেই সমঝোতা করব না। এখন তো নয়ই, আগামী দিনেও নয়। আর এটাই আমাদের প্রথম এবং শেষ শব্দ।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘যে রণনীতির জন্য গর্ব করেন, আপনার সেই রণনীতি এখানে পুরোপুরি ব্যর্থ।’’

আইআরজিসি-মুখপাত্রের কটাক্ষ, নিজেকে বিশ্বের মহাশক্তি হিসাবে দাবি করা আমেরিকা যদি প্রকৃতই মহাশক্তিধর হত, তা হলে এত দিনে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারত। এর পরই ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘নিজেদের হারকে সমঝোতার নাম দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনার মিথ্যা প্রতিশ্রুতির দিন শেষ হয়ে আসছে।’’ উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতাবস্থা থাকবে কি থাকবে না, সেটা ঠিক করবে ইরানই। এমনও মন্তব্য করেছেন জুলফিকারি। শুধু তা-ই নয়, ইরান বাহিনী এটাও স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছে যে, যত দিন না ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর চিন্তাভাবনা পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করে দেবেন, তত দিন পর্যন্ত এই অঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান এই সামরিক সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের হাতে ১৫ দফার শর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে বলে আমেরিকার দাবি। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেই দাবি করেছে ইরান। আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনও রকম আলোচনা হয়নি বলেই দাবি আইআরজিসির।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy