Advertisement
E-Paper

সৌদির সরকারি তেল পরিশোধন সংস্থা আরামকোতেও হামলা ইরানের! গুলি করে নামানো হল দু’টি ড্রোন, উদ্বেগ

সৌদি আরবের আরামকো সংস্থার তেল পরিশোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে সোমবার। ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যায়। পুরু কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১৫:১৫
সৌদি আরবের তেল পরিশোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা।

সৌদি আরবের তেল পরিশোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।

সৌদি আরবের সরকারি তেল পরিশোধন সংস্থা আরামকোতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার ইরান থেকে ছোড়া দু’টি ড্রোন সৌদির পূর্বাঞ্চলের রাস টানুরা শহরে অবস্থিত আরামকোর তেল পরিশোধনাগারকে নিশানা করে। ঘটনার পরপরই ওই তেল পরিশোধনাগার বন্ধ করে দেয় আরামকো। তবে বড়সড় কোনও বিপদ হয়নি বলেই দাবি সৌদি সরকারের। সে দেশের নিরাপত্তাবাহিনী ওই ড্রোনগুলিকে গুলি করে নামিয়েছে। লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই তা ধ্বংস করা হয়েছে।

সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আরামকোর তেল পরিশোধনাগার নিশানা করা হয়েছিল। তবে তা আটকে দেওয়া হয়েছে। ড্রোনগুলির ধ্বংসাবশেষ মাটিতে আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলে আগুন লেগে যায়। তবে তাকে ‘সামান্য’ আগুন বলেই ব্যাখ্যা করেছে রিয়াধ। কিছু ক্ষণের মধ্যেই সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। হতাহতের কোনও খবর নেই।

রাস টানুরায় আরামকোর তেল পরিশোধনাগারটি পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম পরিশোধনাগারগুলির একটি। প্রতি দিন এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিশোধিত হয়। সৌদির খনিজ তেল রফতানির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার সমাজমাধ্যমে রাস টানুরার একাধিক ছবি এবং ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, তেল পরিশোধনাগার থেকে কালো পুরু ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে এবং চারদিক ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছে। আরামকোর তরফে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এই ভিডিয়োর সত্যতাও যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ড্রোন বা ওই ধরনের কোনও যন্ত্রকে আকাশপথে ধ্বংস করা হলেও তার ধ্বংসাবশেষ থেকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে।

Advertisement

গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনীর হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তার পর থেকে তেহরানও প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়ার যে সমস্ত দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে, সেখানে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের বোমা পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরিনের মতো দেশে। সেই প্রত্যাঘাতের হামলা এখনও চলছে। ইরান জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধ শুরু করেনি। এর জন্য মার্কিন ও ইজ়রায়েলি বাহিনীই দায়ী।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
Saudi Arabia Iran US Iran Saudi Aramco
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy