প্রতি চার জন আমেরিকানের মধ্যে মাত্র এক জন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সঠিক। অর্থাৎ, চার জনের মধ্যে বাকি তিন জন আমেরিকানই সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষায় যোগদানকারী অধিকাংশ এও মনে করেন যে, ট্রাম্প যুদ্ধে অতি আগ্রহী। তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক হামলার নির্দেশ দিয়ে চলেছেন।
গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী হামলা চালায় ইরানে। তাতে মৃত্যু হয় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার। ইরানও প্রত্যাঘাত করেছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এখনও ইরানের হামলা চলছে। এই সংঘর্ষ শুরুর পরেই সমীক্ষা শুরু করেছিল রয়টার্স। রবিবার রাত পর্যন্ত তা চলেছে। আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তের ১,২৮২ জন অনলাইনে সমীক্ষায় যোগ দিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, এঁদের মধ্যে ২৭ শতাংশ ইরান আক্রমণের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকানের সংখ্যা ৫৫ শতাংশ। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে রয়েছেন ৪৩ শতাংশ মানুষ এবং এই তালিকায় ৭৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাটের পাশাপাশি ১৩ শতাংশ রিপাবলিকানও রয়েছেন। বাকি ৩০ শতাংশ আমেরিকান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
আরও পড়ুন:
সমীক্ষায় যোগদানকারীদের ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। গত কয়েক মাসে ভেনেজ়ুয়েলা, সিরিয়া, নাইজ়েরিয়ায় পর পর আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। গত বছর হামলা চালানো হয়েছিল ইরানেও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কি সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে অতি আগ্রহী? সমীক্ষায় ৫৬ শতাংশ আমেরিকান এই প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। তাঁদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটের সংখ্যাই ৮৭ শতাংশ। ২৩ শতাংশ রিপাবলিকানও এই মত সমর্থন করেছেন। তাঁরা মনে করেন, ট্রাম্প যুদ্ধে অতি আগ্রহী।
ইরানে হামলায় তিন মার্কিন সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে রবিবার স্বীকার করেছে আমেরিকা। এই স্বীকারোক্তির আগেই অবশ্য রয়টার্সের সমীক্ষা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন, আরও মার্কিন সেনার মৃত্যু হতে পারে। তাঁর দলেরই ৪২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, মার্কিন সেনার ক্ষতি হলে তাঁরা ইরানে হামলাকে সমর্থন করবেন না। এ ছাড়া, যুদ্ধের কারণে তেলের দামও চড়তে শুরু করেছে। তা নিয়ে পৃথক উদ্বেগ রয়েছে আমেরিকানদের মধ্যে।
ইরানে আমেরিকার হামলা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত ভাবে বিক্ষোভ হয়েছে রবিবারই। হোয়াইট হাউসের বাইরে এবং টাইম্স স্কোয়ারে কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। দাবি, মার্কিন কংগ্রেসকে অন্ধকারে রেখে ট্রাম্প ইজ়রায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং ইরান আক্রমণ করেছেন। যদিও খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর আমেরিকার ইরানি নাগরিকদের মধ্যে উল্লাস দেখা গিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে