হরমুজ় প্রণালীর সামনে চলে আসা মার্কিন রণতরীকে সরিয়ে দিল ইরানের সেনাবাহিনী। একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে তেমনটাই দাবি করেছে তেহরান। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার জাহাজটিকে লাগাতার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ইরানি সেনা। বলা হচ্ছে, অবিলম্বে সেখান থেকে সরে না গেলে কোনও সতর্কবার্তা ছাড়াই গোলাগুলি চালানো শুরু হবে। আশপাশে থাকা অন্যান্য জাহাজকেও সরে যেতে বলা হচ্ছে। ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। তেহরানের দাবি, সতর্ক করার কিছু ক্ষণ পর মার্কিন জাহাজটি সরে যেতে বাধ্য হয়।
হরমুজ় প্রণালী জুড়ে ইরান মাইন পেতে রেখেছে। আমেরিকার দাবি, সেগুলি কোথায় কোথায় রাখা আছে, এখন আর তার হদিস পাচ্ছে না ইরানই। জলের মধ্যে রাখা মাইন নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তিও ইরানের কাছে নেই। তাই মাইন নিষ্ক্রিয় করতে হরমুজ়ের কাছে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র-নিষ্ক্রিয়কারী জাহাজ পাঠিয়েছিল আমেরিকা। শনিবারই জানানো হয়েছিল, ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র এবং ইউএসএস মাইকেল মার্ফি নামের রণতরী দু’টিকে পাঠানো হচ্ছে। ইরানের সেনাবাহিনীর পোস্ট করা ভিডিয়োয় ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়রকে দেখা গিয়েছে বলে দাবি।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়ো অনুযায়ী, মার্কিন জাহাজটিকে বার বার সাবধান করছিল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড বাহিনীর ‘সেপা’-র সেনারা। নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে মার্কিন জাহাজটিকে চিহ্নিত করে তারা বলে, ‘‘নৌ সেনার রণতরী ১২১, আমরা সেপা নৌঘাঁটি থেকে বলছি। তোমাদের এখনই মুখ ঘুরিয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে সরে যেতে হবে। আমাদের নির্দেশ না-মানলে আমরা আক্রমণ করব।’’ এর পর আমেরিকার জাহাজ থেকে জবাব আসে। তারা বলে, ‘‘আমরা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে পরিবহণের কাজ করছি। তোমাদের অসুবিধার কোনও কারণ নেই।’’ এর পর ইরানের বাহিনী মনে করিয়ে দেয়, মার্কিন রণতরী ওমান সাগরে রয়েছে। তার পরেই শোনা যায় সতর্কবার্তা, ‘‘শেষ বার বলছি, শেষ বার সতর্ক করছি, সরে যাও।’’ রণতরীর আশপাশে অন্য কোনও জাহাজ থাকলে অন্তত ১০ মাইল দূরে সরে যেতে বলে ইরান। জানায়, যে কোনও মুহূর্তে তারা হামলা চালাতে পারে।’’ ভিডিয়োতে এর পরের অংশ দেখা যায়নি। তবে ইরানের দাবি, এর পর তারা ওই রণতরী লক্ষ্য করে একটি ড্রোন ছুড়েছিল। তার পরেই তারা সরে গিয়েছে।
পাকিস্তানে আয়োজিত আমেরিকা-ইরান সমঝোতার বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প হরমুজ় অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার মধ্যেই মার্কিন রণতরীর এই ভিডিয়ো প্রকাশ করে আমেরিকার সেনাকেই বার্তা দিতে চাইল তেহরান।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত
-
‘আমরা জলদস্যুই’! হরমুজ়ে ইরানি জাহাজের ‘দখল’ প্রসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশংসা করলেন ট্রাম্প