পাঁচ-পাঁচটি শিশুকে যৌন নির্যাতন এবং তার পরে হত্যা। মারা গেল ব্রিটেনের কুখ্যাত ‘মুর খুনিদের’ অন্যতম আয়ান ব্র্যাডি।
উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মার্সিসাইডের অ্যাশওয়ার্থ মানসিক হাসপাতালে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল ব্র্যাডিকে। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। গত কাল সন্ধেবেলা মারা যায় সে। ডিসেম্বরে তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। ১৯৬৩-১৯৬৫ সালের মধ্যে ব্র্যাডি আর তার তৎকালীন প্রেমিকা মায়রা হিন্ডলে পাঁচটি বাচ্চার উপরে নির্যাতন চালিয়ে তাদের খুন করে। খুনের পরে চারটি বাচ্চাকে তারা পুঁতে দেয় ওল্ডহ্যামের কাছে স্যাডলওয়ার্থ মুর নামে একটি জায়গায়। সেই নাম থেকেই ‘মুর খুনি’ হিসেবে তাদের পরিচিতি। চার শিশুর দেহের হদিস মিললেও ব্র্যাডদের হাতে খুন হওয়া পাঁচ নম্বর শিশু অর্থাৎ বারো বছরের কিথ বেনেটের দেহের খোঁজ আজও মেলেনি। ব্র্যাডের কাছে বহু বার কিথের পরিবার হত্যে দিয়েও কোনও তথ্য জানতে পারেনি।
ব্র্যাডি আর হিন্ডলে ১৯৬৬ সালে তিনটি খুনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। বাকি আরও দু’টি নির্যাতন এবং খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে ১৯৮০ সালে। চিকিৎসায় ধরা পড়ে, ব্র্যাডি মানসিক রোগের শিকার। ১৯৮৫ সাল থেকে তাকে মানসিক হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় রাখা হয়। তখন সে বলতে শুরু করে, তার আর বেঁচে থাকার ইচ্ছে নেই। না খেয়ে নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল সে। তবে জোর করে খাওয়ানো হতো তাকে। ব্র্যাডির মৃত্যুর ফলে কিথ খুনে ধোঁয়াশা রয়েই গেল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত বন্ধ হবে না।