E-Paper

৫ বছরের শিশুও পণবন্দি, ক্ষোভ

গত কয়েক মাসে আইসিই-র কর্মীদের আচরণের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই একাধিক শহরে কয়েকটি সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৮
সেই শিশু। লিয়াম রামোস।

সেই শিশু। লিয়াম রামোস।

এক সন্তানের মা, ৩৭ বছরের রেনে গুড-কে মুখে গুলি করে খুনের ঘটনার রেশ কাটেনি। বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড়ের মধ্যেই এ বারে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী-বিতাড়ন বাহিনী বা আইসিই-র কর্মীরা একটি পাঁচ বছরের শিশুকে পণবন্দি করে তার পরিবারকে আটক করল। মিনেসোটার কলাম্বিয়া হাইটস এলাকায় এই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইনজীবীদের অভিযোগ, প্রি-স্কুলের পড়ুয়া শিশুটি বাড়ি ফেরার পথে তাকে আটক করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করে বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই ঠাঁই হয়েছে খুদে লিয়াম কোনেহো রামোসেরও। গোটা ঘটনায় নতুন করে আইসিই-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ আছড়ে পড়ার পাশাপাশি নিন্দার ঝড় উঠেছে দেশ জুড়ে।

অভিবাসী পাকড়াওয়ের নাম করে ৫ বছর বয়সি লিয়াম কোনেহো রামোস-কে ‘অপরাধীর মতো আটক করার’ নিন্দায় সরব হয়েছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট এবং মানবাধিকার, শিশু অধিকার সংক্রান্ত সংগঠনগুলি। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তথা আমেরিকার প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এক্স হ্যান্ডলে এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, ‘‘ও তো একটা নিষ্পাপ বাচ্চা। ওকে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে থাকতে দেওয়া উচিত। টোপ হিসেবে ব্যবহার করে তার পরে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া যায় না। আমি রাগে ফুঁসছি। অন্যদেরও তা-ই করা দরকার।’’ কমলা হ্যারিসের সুরেই আইসিই-র এই কাজ দাগী অপরাধীদের মতো বলে অভিযোগ তুলেছেন একাধিক মানবাধিকার কর্মী। যে ভাবে পাঁচ বছরের শিশুকে আটক করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ করে লিয়ামের পরিবারের আইনজীবী মার্ক প্রোকশ জানান, লিয়াম ও তার বাবা ইকুয়েডরের নাগরিক। দু’জনই আশ্রয়ের আবেদনকারী হিসেবে আমেরিকায় বৈধ ভাবেই ছিলেন। কিন্তু যে ভাবে তাঁদের আটক করে টেক্সাসের ডিলি-তে একটি শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের।

গোটা ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিন্টেনডেন্ট জ়েনা স্টেনভিকও। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সশস্ত্র ও মুখোশধারী আইসিই-র এজেন্টরা আমাদের পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আমাদের স্কুলগুলোর চার পাশে ঘোরাফেরা করছেন, আমাদের বাসগুলোকে অনুসরণ করছেন। একাধিক বার আমাদের পার্কিং লটে ঢুকেছেন এবং আমাদের সন্তানদেরও নিয়ে যাচ্ছেন।’’ আইসিই-র এমন কাজে স্থানীয়রা আতঙ্কিত তো বটেই, শিশুদের মনের উপর এর গভীর প্রভাব পড়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

বস্তুত গত কয়েক মাসে আইসিই-র কর্মীদের আচরণের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই একাধিক শহরে কয়েকটি সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী তৈরি হয়েছে। ৩৭ বছরের রেনে গুডকে খুন করার ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এই কর্মীদের নিজেদের রেস্তরাঁয় ঢুকতে দিচ্ছেন না বহু রেস্তরাঁ মালিক। অনেক জায়গাতেই আইসিই-বিরোধী বিক্ষোভ হিংসাত্মকও হয়েছে। এই কর্মীদের বিরুদ্ধে মহিলা এমনকি শিশুদের যৌন হেনস্থা, আশ্রয় শিবিরে ধর্ষণ করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। তার পরেও ট্রাম্প প্রশাসন নির্বিকার থাকায় জনমানসে ক্ষোভ বাড়ছে। পাঁচ বছরের লিয়ামকে পণবন্দি করার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স দাবি করেন, শিশুটির বাবা পলাতক থাকায় আইসিই-কর্মীরা তাঁকে খুঁজছিলেন। ওই সময় শিশুটিকে একা ফেলে রেখে যেতে চাননি বলেই তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যান তাঁরা। কিন্তু ঘটনার ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান তুলে ধরে প্রতিবাদীদের অভিযোগ, ভান্স যা বলেছেন, তা সর্বৈব মিথ্যে। ধর্ষকএবং খুনিদের আশ্রয়দাতা ট্রাম্প ওতাঁর সঙ্গীরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

ice US

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy