এ বার পাকিস্তানের তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ় পেরোনোর অনুমতি দিল ইরান। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, জাহাজটি ইতিমধ্যে আরব সাগরে পড়েছে। বুধবার নাগাদ সেটি পাকিস্তানের করাচিতে পৌঁছোতে পারে। ‘এমটি করাচি’ নামে ওই জাহাজে প্রায় ১,০৯,৯৯০ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান শিপিং কর্পোরেশনের মুখপাত্র ফারুক নিজ়ামি। এর আগে ভারতের এলপিজি বোঝাই জাহাজকে হরমুজ় পেরোনোর অনুমতি দিয়েছিল ইরান। দু’টি জাহাজ ইতিমধ্যে ভারতে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবু ধাবি থেকে তেল নিয়ে জাহাজটি ১৫ মার্চ হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে আসে। পাকিস্তানের নৌসেনা তাকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে আসে। দেশে চাহিদা মেটাতে পাকিস্তান অন্য দেশে থেকে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে ইরান হরমুজ় প্রণালী আটকে রাখায় বিপাকে পড়েছিল তারা। দেশে তেলের সঙ্কট তৈরি হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই পদক্ষেপের অংশ হিসাবে, সরকার ঘোষণা করে যে, স্কুলগুলি ৯ মার্চ থেকে পরের ১৫ দিন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে হবে অনলাইন ক্লাস এবং সরকারি দফতরগুলি সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। যে দিনগুলিতে সরকারি দফতরগুলি খোলা থাকবে, সে দিনগুলি ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করবেন।
আরও পড়ুন:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। প্রত্যাঘাত করে তেহরানও। তারা হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল, এলপিজি আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব দিকে আসতে হলে হরমুজ় পেরোনো বাধ্যতামূলক। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশ।