Advertisement
E-Paper

নাতান্‌জ় পরমাণু কেন্দ্রে আবার হামলা আমেরিকা-ইজ়রায়েলের! তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আশঙ্কা বাড়ছে, কী দাবি করল ইরান

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই এই পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের। উপগ্রহচিত্রে নাতান্‌জ়ের আশাপাশের এলাকার ধ্বংসের ছবি ধরা পড়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩১
নাতান্‌জ় পরমাণু কেন্দ্র। ছবি: রয়টার্স।

নাতান্‌জ় পরমাণু কেন্দ্র। ছবি: রয়টার্স।

নাতান্‌জ় পরমাণু কেন্দ্রে আবার হামলা চালানো হয়েছে। দাবি করল ইরান। এ বারও আঙুল উঠল সেই ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার দিকে। ইরানের সংবাদ সংস্থা মিজ়ানের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শনিবার নাতান্‌জ় পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে মহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। তেহরান থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এই পরমাণু কেন্দ্রে আগেও হামলা চালানো হয়েছিল।

ঘটনাচক্রে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ঘোষণা করেছিলেন ইরানে অভিযান গুটিয়ে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘লক্ষ্যপূরণের দিকে আমরা অনেকটাই এগিয়েছি। এ বার অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।’’ কিন্তু ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর পরই নাতান্‌জ়ে বোমাবর্ষণ করা হয়।

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই এই পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের। উপগ্রহচিত্রে নাতান্‌জ়ের আশাপাশের এলাকার ধ্বংসের ছবি ধরা পড়েছিল তাতে। সেই হামলার পর পরই আশঙ্কা বাড়তে শুরু করে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে কি না তা নিয়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা দাবি করে, কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে না। শনিবার আবার সেই পরমাণু কেন্দ্রে হামলা হওয়ার পর আশঙ্কা বাড়তে শুরু করায়, তেহরান জানিয়েছে, তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

গত ২ মার্চ নাতান্‌জ়ে হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। সেই সময় রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, পরমাণুকেন্দ্রের কিছু জায়গার ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ তেমন মারাত্মক নয়। নাতান্‌জ় পরমাণুকেন্দ্রের প্রবেশের মুখে যে ভবনগুলি রয়েছে, সেগুলি গুঁড়িয়ে গিয়েছে। অক্ষত রয়েছে মাটির নীচে থাকা পরমাণু কেন্দ্রটি। কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়নি বলে সেই সময়ও দাবি করা হয়।

প্রসঙ্গত, তেহরান থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ইরানের কেন্দ্রীয় মালভূমিতে রয়েছে নাতান্‌জ় পরমাণুকেন্দ্র। কেন্দ্রের একটি বড় অংশ রয়েছে মাটির নীচে। বাকি অংশ রয়েছে মাটির উপরে। নাতান্‌জ় পরমাণুকেন্দ্রকে ইরানের ‘ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণের মুকুট’ বলা হয়। এই কেন্দ্রেও ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ করা যায়। এতে সামান্য তেজস্ক্রিয় স্তরে পৌঁছোয় ইউরেনিয়াম, কিন্তু পরমাণু বোমা তৈরির জন্য তা যথেষ্ট নয়।

গত বছর জুনেও ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নাতান্‌জ়। শুধু ওই পরমাণুকেন্দ্রটি নয়, একই সঙ্গে ফোরডো এবং ইশফাহান পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছিল সে সময়। সেই হামলার বিষয় নিশ্চিত করেছিল আইএইএ। তবে সে সময় হামলার বিষয় প্রথমে অস্বীকার করেছিল ইরান। যদিও বিভিন্ন উপগ্রহচিত্র থেকে স্পষ্ট হয়েছিল হামলার বিষয়টি। ওই পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে আঘাত হানা হলেও ততটা ক্ষতি হয়নি।

Nuclear
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy