Advertisement
E-Paper

বোঝাপড়ায় আসুন, না-হলে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে! ১০-১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানকে কত দিনের মধ্যে আমেরিকার সঙ্গে বোঝাপড়া বা ‘ডিল’-এ রাজি হতে হবে, তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “১০ থেকে ১৫ দিন যথেষ্ট সময়।”

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৫
(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ফের ইরানের বিরুদ্ধে সুর চড়়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার ‘খারাপ কিছু ঘটার’ হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরানকে বোঝাপড়ায় বসার আহ্বান জানালেন তিনি। ইরানকে কত দিনের মধ্যে এই বোঝাপড়া বা ‘ডিল’-এ রাজি হতে হবে, তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “১০ থেকে ১৫ দিন যথেষ্ট সময়।”

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের গড়া শান্তি পরিষদ (বোর্ড অফ পিস)-এর সদস্যদের প্রথম বৈঠক ছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজ়ার পুনর্গঠনের জন্য এই ‘বোর্ড অফ পিস’ গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওই বৈঠকের প্রারম্ভিক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “কয়েক বছর ধরে এটা প্রমাণিত যে, ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বোঝাপড়ায় আসা সম্ভব নয়। আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ বোঝাপড়ায় আসতে হবে। না হলে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।” একই সঙ্গে ট্রাম্পের সংযোজন, “ইরানের অবশ্যই বোঝাপড়ায় আসা উচিত। না হলে খারাপ কিছু ঘটবে।” তবে এই ‘খারাপ কিছুর’ সবিস্তার ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প।

পরে নিজের বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ উঠে ট্রাম্প ইরানকে বোঝাপড়ায় আসার জন্য সময় বেঁধে দেন। বলেন, “১০ থেকে ১৫ দিন অনেকটা বেশি সময়। আমরা হয় বোঝাপড়ায় আসব, না হলে ওদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক কিছু হবে।”

প্রসঙ্গত, আমেরিকা দীর্ঘ দিন ধরেই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্যই এই কর্মসূচি শুরু করেছে তেহরান। ইরানের পাল্টা দাবি, শক্তি উৎপাদন এবং গবেষণার কাজের জন্য ওই কর্মসূচি চালাচ্ছে তারা। নিজেদের সার্বভৌম অধিকার অনুযায়ী তারা আমেরিকার কথায় এই কর্মসূচি বন্ধ করবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য মার্কিন হানার কথা মাথায় রেখে দেশের পরমাণুকেন্দ্রগুলিকে সুরক্ষিত রাখছে ইরান। মার্কিন সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিয়োরিটি’ উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দাবি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা বন্দোবস্ত আঁটোসাঁটো করছে তেহরান। বাঙ্কার দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে সেগুলিকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং সিবিএস সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানে হানা দিতে ‘প্রস্তুত’ মার্কিন সেনা! তবে তাদের প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা সরাসরি সামরিক সংঘাতে যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত কয়েক দিন ধরেই পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক কার্যকলাপ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অঞ্চলে ৫০-এর বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর তরফে দাবি করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি আমেরিকার যুদ্ধবিমানের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়েছে।

আমেরিকার এই শক্তিপ্রদর্শনের মাঝেই ইরান পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন করেছে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। ঘটনাচক্রে, হরমুজ প্রণালীর অদূরেই মোতায়েন রয়েছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ একাধিক রণতরী। যদিও ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপণ নিছক পরীক্ষামূলক। তবে তেহরানের এই দাবি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের মনেই। তাঁদের দাবি, তেহরানের এই পদক্ষেপ ‘প্ররোচনামূলক’ও হতে পারে।

US Iran Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy