পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত যখন চরমে আবার নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। এ বার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষপণকারী আরও শক্তিশালী যন্ত্রের পরীক্ষা চালাল তারা। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ দাবি করেছে, নতুন এই যন্ত্রটি নিক্ষেপ ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আগে ছিল ১৯৭১ কিলোটন। এখন সেটির ক্ষমতা বাড়িয়ে ২৫০০ কিলোটন করা হয়েছে।
কেসিএনএ-র দাবি, প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক এই উৎক্ষেপণকারী যন্ত্রের সফল পরীক্ষা হয়েছে। ফলে আমেরিকার মূল ভূখণ্ড তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে চলে আসবে। এই ধরনের একের পর এক সমরাস্ত্র পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া বার বার তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের শক্তিপ্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের আবহে কিম প্রশাসনের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র পরীক্ষায় জল্পনাও বাড়ছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগেই জাপান সাগরের পূর্বাংশে পর পর ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলেন প্রশাসক কিম জং উন। ঘটনাচক্রে, ওই সময়ে জাপান সাগরে আমেরিকা-দক্ষিণ কোরিয়ার নৌমহড়া চলছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে হুলস্থুল পড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়া এই ঘটনার প্রতিবাদ করে। তবে কিম যে সেই প্রতিবাদের ধার ধারেন না, তা বার বারই তিনি স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দমানোর চেষ্টা করেছিল। অভিযোগ তুলেছিল, কিম প্রশাসন পরমাণু পরীক্ষণ করছে। আর সেই অভিযোগ তুলে উত্তর কোরিয়াকে চাপে রাখতে তাদের উপর নানা রকম বিধিনিষেধ জারি করে। কিন্তু তার পরেও উত্তর কোরিয়া একের পর এক সমরাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে গিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতেই তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। যা গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছিল। জানুয়ারিতেও নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী করে তারা। সাবমেরিন লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (এসএলবিএম)-এর প্রদর্শনী হয়। রাজধানী পিয়ংইয়ং-এর সান স্কোয়ারে এই প্রদর্শনীতে দেখা গিয়েছিল কিম জং-কেও।