পহেলগাঁও কাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের কোনও যোগ নেই বলে শুরু থেকে দাবি করে আসছে পাকিস্তান। এ বার সেই নিয়ে আরও বেশি নিজেদের গা বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের দাবি, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তদন্ত করে দেখুক রাশিয়া, চিন বা অন্য কোনও পশ্চিমা দেশ। সাধারণত এই ধরনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জ বা কোনও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছে তদন্তের আর্জি করা যেতে পারত। যেমন আন্তর্জাতিক অনেক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপের দাবি ওঠে। কিন্তু নির্দিষ্ট ভাবে কিছু দেশের নামোল্লেখ করেই কেন তদন্তের আর্জি জানালেন পাকিস্তানি মন্ত্রী, তা নিয়ে কৌতুহল দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা আরআইএ নোভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি রাশিয়া, চিন, এমনকি পশ্চিমা দেশগুলিও এই সঙ্কটের সময়ে খুব ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা একটি তদন্তকারী দল গঠন করতে পারে। ভারত সত্য বলছে কি না তা তদন্ত করে দেখার দায়িত্ব দেওয়া উচিত ওই দলকে।” খোয়াজার বক্তব্য, ‘ফাঁকা বিবৃতি’র বদলে এই ঘটনায় কারা জড়িত সেই অপরাধীদের খুঁজে বার করার উচিত। বস্তুত, গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে, পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় যে জঙ্গিরা জড়িত, তাদের বেশিরভাগই পাকিস্তান থেকে এসেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, “পাকিস্তান জড়িত থাকার বা এই হামলাকারীদের পাকিস্তান সমর্থন করার কিছু প্রমাণ থাকতে হবে। এগুলি শুধু বিবৃতি, ফাঁকা বিবৃতি এবং এর বেশি কিছু নয়।”
পহেলগাঁওয়ের হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফোর্স (টিআরএফ)। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লশকর-এ-ত্যায়বার ছায়া সংগঠন হিসাবে এটি পরিচিত। অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে শুধু দু’জন ভারতীয়। বাকি সকলেই ছিলেন পাকিস্তানি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, ভারত কোনও প্রমাণ বা কোনও তদন্ত ছাড়াই এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করছে। পাকিস্তান এই সংক্রান্ত যে কোনও আন্তর্জাতিক তদন্তে যোগ দিতে ইচ্ছুক বলেও জানিয়েছেন আসিফ।
ঘটনাচক্রে, রবিবার রাতেই চিনা সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইম্স’-এ জানানো হয়, ভারত-পাকিস্তান উদ্ভূত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বেজিং। চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই ফোন করেছেন পাক বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইসাক দারকে। ওই সময়ে পাকিস্তানের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন ওয়াং।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- সংঘর্ষবিরতিতে রাজি ভারত এবং পাকিস্তান। গত ১০ মে প্রথম এই বিষয় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে দুই দেশের সরকারের তরফেও সংঘর্ষবিরতির কথা জানানো হয়।
- সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও ১০ মে রাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তবে ১১ মে সকাল থেকে ভারত-পাক সীমান্তবর্তী এলাকার ছবি পাল্টেছে।
-
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিষয়, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না নয়াদিল্লি, জানিয়েছে আমেরিকা: পাক বিদেশমন্ত্রী
-
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই, অগ্নিবীরদের ভাগ্য খুলে যেতে পারে, ৪ বছরের মেয়াদ বাড়বে? কী পরিবর্তন হতে পারে? চর্চা
-
ভারতের হামলায় কি গুঁড়িয়ে গিয়েছে আমেরিকায় তৈরি পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬? এক বাক্যে জবাব মার্কিন বিদেশ দফতরের
-
৩ মাস ধরে পালানোর চেষ্টা, শেষে চিনা যন্ত্র চালু করতেই গোয়েন্দাদের জালে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা
-
গোপন সুড়ঙ্গের মুখ কৌশলে বন্ধ করে ‘ফাঁদ’ পাতে সেনা? কেন তিন মাসেও কাশ্মীর ছাড়তে পারেনি পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা