Advertisement
E-Paper

কট্টরপন্থীদের চাপে পিছু হটলেন পাক পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম! লাহোরের মহল্লা, সড়কের নাম পরিবর্তন স্থগিত

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে হিন্দু, শিখ, জৈন এবং ব্রিটিশ আমলের নাম আবার ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় বাধা দিয়েছিল কট্টরপন্থী গোষ্ঠী। পাক পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ় তাতে নতি স্বীকার করলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১৮:৫১
Pakistan’s Punjab Government puts off pre-Partition renaming plan

মরিয়ম নওয়াজ়। —ফাইল চিত্র।

বহুত্বের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে লাহোরের বিভিন্ন রাস্তা এবং এলাকার ‘ঐতিহাসিক নাম’ ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাক পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সরকার। কিন্তু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে হিন্দু, শিখ, জৈন এবং ব্রিটিশ আমলের নাম আবার ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় বাধ সাধল কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলির বাধা। শহরের বিভিন্ন পুরনো এলাকা, রাস্তা, উদ্যানের হিন্দু, শিখ, জৈন এবং ব্রিটিশ আমলের নাম ফিরিয়ে আনা সিদ্ধান্ত কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্জাব সরকার।

মাস কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মরিয়মের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে লাহোর ও আশপাশের বিভিন্ন রাস্তা ও এলাকার ঐতিহাসিক নাম পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছিল। সেই মতো পাক পঞ্জাবের রাজধানী শহরের ন’টি নাম সরকারি নথিতে পরিবর্তিত হয়ে ঔপনিবেশিক জমানার পরিচয়ে ফিরে গিয়েছিল— লক্ষ্মী চক, যেটির নাম এক সময় মৌলানা জাফর আলি খান চক রাখা হয়েছিল। ডেভিস রোড, যা পরে স্যর আগা খান রোড নামে পরিচিত হয়। কুইন্স রোড, যেটি দীর্ঘ দিন ফাতিমা জিন্না রোড নামে পরিচিত ছিল। বিখ্যাত লরেন্স গার্ডেনও বহু বছর ধরে ‘বাগ-এ-জিন্নাহ’ নামে পরিচিত থাকার পর আবার তার পুরনো নামে ফিরে যায়।

এর পাশাপাশি, দীর্ঘ আট দশক পরে ইসলামপুরা আবার হয়ে উঠছিল কৃষ্ণনগর। বাবরি মসজিদ চক ফিরেছিল জৈন মন্দির চকের পরিচয়ে। সুন্নতনগর হয়েছিল সন্তনগর, রহমান গলি ফিরছিল রাম গলিতে, মুস্তাফাবাদ ফিরে পেয়েছিল তার পুরনো পরিচয় ধরমপুরা। ভারত সীমান্ত লাগোয়া লাহোর দীর্ঘ কয়েক শতক ধরে ছিল মুসলিম-শিখ-হিন্দু যৌথ সংস্কৃতির ঠিকানা। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ জমানাতেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সেই ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে গত বছর এলএএইচআর (লাহোর অথরিটি ফর হেরিটেজ রিভাইভাল)-এর তরফে পুরনো স্মৃতি বিজড়িত মহল্লা, সড়ক, উদ্যানের নাম ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছিল মরিয়ম মন্ত্রিসভার কাছে। মন্ত্রিসভার সম্মতিও মিলেছিল তাতে। কিন্তু এর পরেই কট্টরপন্থী কয়েকটি মুসলিম সংগঠন বিরোধিতায় সরব হয়। এই পরিস্থিতিতে সোমবার লাহোরের ডেপুটি কমিশনার ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ আলি ইজ়াজ পাকিস্তানি সংবাদপত্র ‘ডন’-কে বলেন, “নাম পরিবর্তনের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি, বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন।’’

Lahore Pakistan Maryam Nawaz
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy