ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার দিকে এগোচ্ছে ইরানের আরও এক যুদ্ধজাহাজ। ফের মার্কিন হামলার আশঙ্কায় শ্রীলঙ্কার সাহায্যও চেয়েছে ওই জাহাজটি। দ্রুত শ্রীলঙ্কার বন্দরে ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানায়নি শ্রীলঙ্কার সরকার।
সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজটিতে ১০০ জন রয়েছেন। জাহাজটি সাহায্যপ্রার্থনা করার পর সরকার কী অবস্থান নিয়েছে, শনিবার তা জানতে চান শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দলনেতা সাজিথ প্রেমদাস। উত্তরে সরকারের মুখপাত্র এবং মন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে অবহিত রয়েছি এবং জাহাজে থাকা প্রত্যেককে রক্ষা করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।” শ্রীলঙ্কার এই মন্ত্রী জানিয়েছেন, জাহাজটি প্রশান্ত মহাসাগরের উপর শ্রীলঙ্কার বৃহত্তর অর্থনৈতিক এলাকায় অপেক্ষা করছে। তবে সেটির অবস্থান শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে বলে জানিয়েছেন নালিন্দা।
বুধবার ভোরে ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানি রণতরী ‘ডেনা’-র উপরে হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। টর্পেডো ছুড়ে ইরানের যুদ্ধজাহাজকে ধ্বংস করে দেয় তারা। মার্কিন টর্পেডোর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৩২ জনকে। কিন্তু এখনও প্রায় ৬০ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবারের ওই হামলাটি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে। শ্রীলঙ্কার নৌসেনাই ওই যুদ্ধজাহাজে উদ্ধারকাজ শুরু করে। যে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা এখন ভর্তি রয়েছেন শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে বন্দর শহর গলের এক হাসপাতালে। বুধবারের ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ফের শ্রীলঙ্কার উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ইরানের আরও এক যুদ্ধজাহাজ।
সম্প্রতি, ভারতের বিশাখাপত্তনমে একটি আন্তর্জাতিক নৌসেনা মহড়া হয়েছিল। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, ভারত আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক নৌমহড়ায় অংশগ্রহণ করেছিল ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘ডেনা’। যদিও ভারতীয় নৌসেনার তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বৃহস্পতিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও দাবি করেছেন, মার্কিন টর্পেডো হানায় ডুবে যাওয়া রণতরীটি ছিল ভারতীয় নৌসেনার ‘অতিথি’।
আমেরিকার হামলার পরে মার্কিন বাহিনীকে পাল্টা হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন আরাঘচি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২০০০ মাইল (৩২১৮ কিলোমিটার) দূরের সমুদ্রে এক নির্মম কাণ্ড ঘটিয়েছে আমেরিকা। কোনও সতর্কবার্তা না দিয়েই আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নৌসেনার অতিথি ফ্রিগেট ‘ডেনা’র উপরে হামলা করে তারা। জাহাজে তখন প্রায় ১৩০ জন ছিলেন। মনে রাখবেন, আমেরিকা যে কাণ্ড ঘটিয়েছে তার জন্য ওদের পস্তাতে হবে।”