ছ’মাস পরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম (চিটাগং হিল ট্র্যাক্ট বা সিএইচটি) এলাকার তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দারবন এবং রাঙামাটিতে। উপলক্ষ, আদিবাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-গণতান্ত্রিক (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক)-এর এক নেতার খুনের ঘটনা। শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ইউপিডিএফ সমন্বয়ক নীতিদত্ত চাকমা (৪০)-কে গুলি করে খুন করে অজ্ঞাতপরিচয় ঘাতকেরা। তার পরেই বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে পথে নেমেছে আদিবাসী সংগঠনগুলি।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সকালে পৌনে ৯টা নাগাদ পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের সূতকর্মাপাড়া এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা জনজাতির নেতা নীতিদত্তকে গুলি করে খুন করা হয়। স্থানীয় ভাবে বৈসাবি মেলার আয়োজন উপলক্ষে একটি প্রস্তুতি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো একটি সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, খুনের নেপথ্যে ‘ইউপিডিএফ-প্রসীত খিসা’ গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ওই গোষ্ঠীর মুখপাত্র অংগ্য মারমা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়িতেই গুলি চালিয়ে তিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা নাগরিককে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল ইসলামি কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার জেরে ছড়িয়ে পড়া গোষ্ঠীহিংসায় খুন হয়েছিলেন ১০ জন অমুসলিম। পোড়ানো হয়েছিল চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, কুকি, ব্রু এবং অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাজারেরও বেশি বাড়িঘর, ধর্মস্থান, দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমনকি, চট্টগ্রামের সমতল এলাকাতেও বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিস্টানদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বস্তুত, প্রায় চার দশক ধরেই বার বার গোষ্ঠীহিংসায় রক্তাক্ত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আশির দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের আমলে সমতলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে পাহাড়ে বসতি গড়ে দেওয়া হয়। ‘সেটলার’ নামে পরিচিত সেই জনগোষ্ঠী আজ সংখ্যায় বহু গুণ বেড়ে চাকমা ও অন্য জনজাতিদের অস্তিত্বের সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে। বান্দারবনে মুসলিম জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫২ শতাংশ পেরিয়ে গিয়েছে। খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটির পাহাড়েও দ্রুত মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে। আদিবাসী নেতাদের অভিযোগ, নিজভূমে পরবাসী হয়ে পড়ছেন চাকমা, ব্রু, কুকি, মারমা, ত্রিপুরা জনজাতিরা। আর সেখান থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত।