শুক্রবার। তখন ভেনেজ়ুয়েলায় গভীর রাত। প্রায় শান্ত হয়ে গিয়েছে রাজধানী কারাকাসও। ঠিক সেই সময়েই সদলবলে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনা। নেতৃত্বে আমেরিকার ডেল্টা বাহিনী। সূত্রের দাবি, অভিযানে ডেল্টা বাহিনীর সঙ্গে ছিল পেন্টাগনের ‘নাইট স্টকার্স’ হেলিকপ্টার ইউনিটও। ২০১১ সালে আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা অভিযানেও যুক্ত ছিলেন এই ইউনিটের পাইলটের।
আমেরিকার এই ‘নাইট স্টকার্স’ ইউনিট চালু হয়েছিল আশির দশকের শুরুর দিকে। তার ঠিক আগেই, ১৯৮০ সালে ইরান থেকে বন্দি উদ্ধার অভিযানে (অপারেশন ঈগল ক্ল) ব্যর্থ হয় পেন্টাগন। তার পরেই এমন একটি ইউনিট তৈরি করার প্রয়োজন হয়, যা রাতের অভিযানে বিশেষ ভাবে পারদর্শী। সেই লক্ষ্যেই ১৯৮১ সালে তৈরি হয় মার্কিন সেনার ১৬০তম স্পেশাল অপারেশন্স এভিয়েশন রেজিমেন্ট। ‘নাইট স্টকার্স’ হেলিকপ্টার ইউনিট নামেই এই বাহিনী অধিক পরিচিত।
আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে আকাশপথে সাহায্য করাই এই বাহিনীর মূল কাজ। বিভিন্ন বিপজ্জনক এবং রাজনৈতিক ভাবে সংবেদনশীল অভিযানে এই ইউনিটকে ব্যবহার করা হয়। রাতের অন্ধকারে যখন দৃশ্যমানতা তলানিতে নেমে আসে, সেই পরিস্থিতিতেও আকাশের ‘দখল’ ধরে রাখতে সিদ্ধহস্ত এই বাহিনী।
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁরই প্রাসাদ থেকে সস্ত্রীক অপহরণ করেছে আমেরিকা। সেই অভিযানেও ডেল্টা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ‘নাইট স্টকার্স’ ইউনিট। আনুষ্ঠানিক ভাবে ওয়াশিংটন বা পেন্টাগন থেকে এমন কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যে ভাবে রাতের অন্ধকারে অভিযান চলেছে, তার সঙ্গে ‘নাইট স্টকার্স’-এর অনেক মিল রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
পাশাপাশি কয়েক মাস আগেও ভেনেজ়ুয়েলার কাছাকাছি আমেরিকার এই বিশেষ হেলিপক্টার বাহিনীকে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। গত অক্টোবরে ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করেছিল, ক্যারিবিয়ান সাগরে মহড়া দিতে দেখা গিয়েছে ‘নাইট স্টকার্স’ বাহিনীর হেলিকপ্টারকে। আশির দশকে এই হেলিকপ্টার বাহিনী তৈরি হওয়ার পর থেকেই এদের মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিম এশিয়ার গতিবিধি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘নাইট স্টকার্স’-এর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় ক্যারিবিয়ান সাগরে। অনেকেই অনুমান করেন, দক্ষিণ আমেরিকায় বিশেষ করে ভেনেজ়ুয়েলার কথা মাথায় রেখেই এই কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে আমেরিকার এই অভিজাত হেলিকপ্টার ইউনিটে।
মাদুরোকে গ্রেফতার এবং উৎখাতের জাল বোনা হয়েছিল অনেক বছর আগেই। গত কয়েক বছর ধরেই সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু পারেনি। ২০২০ সালে আমেরিকার এক আদালত মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস-সহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে অভিযোগ তুলেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনও মাদুরোর মাথার দাম বাড়িয়ে পাঁচ কোটি ডলার ঘোষণা করে। টানা পাঁচ বছর ধরে মাদুরোকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা অবশেষে বাস্তবায়িত হল। শুক্রবার গভীর রাতে মাদুরোর সেফ হাউসে ঢুকে সস্ত্রীক তাঁকে বন্দি করে নিয়ে আসা হয় নিউ ইয়র্কে।
শুক্রবার রাতে অভিযানের সময়ে পুরো কারাকাসকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, ১৫০টি সামরিক বিমানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল এফ-২২, এফ-৩৫, এফ-১৮, ইএ-১৮, ই-২ এবং বি-১ বম্বারের মতো যুদ্ধবিমান। এ ছাড়া ড্রোনও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমেরিকার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ ড্যান কেন।