ইরানের খার্গ দ্বীপে ৯০টিরও বেশি জায়গায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। শনিবার হামলার ভিডিয়ো প্রকাশ করে এমনটাই দাবি করল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। আমেরিকার দাবি, তারা ওই হামলার ইরানের নৌসেনার বেশ কয়েকটি মাইন মজুতকেন্দ্র ধ্বংস করে দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখার বাঙ্কার এবং আরও বেশ কিছু সামরিক স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি মার্কিন সেনার। যদিও হামলায় ওই দ্বীপের তৈলভান্ডারের কোনও ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করছে তারা।
হরমুজ় প্রণালী থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে খার্গ দ্বীপ। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে তা ২৬ কিলোমিটার দূরে। আকারে ছোট হলেও এই দ্বীপটি ইরানের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের পরিকাঠামোর দিক থেকে। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই রফতানির আগে প্রথমে এই দ্বীপে আসে। পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড থেকে পাঠানো হয় এই দ্বীপে। ইরানের মূল ভূখণ্ড লাগোয়া সমুদ্র অগভীর। সেই তুলনায় খার্গ দ্বীপটি গভীর সমুদ্রের কাছাকাছি। ফলে এই দ্বীপ থেকে তেল বোঝাই করাই সুবিধাজনক হয় বড় ট্যাঙ্কারগুলির কাছে।
আরও পড়ুন:
ইরানের কাছে বাণিজ্যিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপেই শনিবার ভোরে হামলা করে মার্কিন বাহিনী। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ়’ জানায়, খার্গ দ্বীপে ১৫টি বিস্ফোরণ হয়েছে। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “আমার নির্দেশে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলাটি চালিয়েছে। ইরানের মুকুট খার্গ আইল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটিগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে এখনও সেখানকার তেলের ঘাঁটিগুলিকে মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত আমি নিইনি। তবে যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ় প্রণালীতে স্বাধীন ভাবে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, আমি সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘আমাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের অবস্থাও হত গাজ়ার মতো’! দাবি পেজ়শকিয়ানের, নিশানায় আমেরিকা
-
‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
হিজ়বুল্লা-নিধনে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়ে গেলেও ‘স্পিকটিনট’! ৩০০০০ কোটি ডলারে ইরানের মুখ বন্ধ করল আমেরিকা?
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?