তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশীদারি বাড়লেও, নেতৃত্বে তাঁদের এগিয়ে আসার রাস্তা এখনও তৈরি হয়নি। বরং একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও তাতে দেখা যায় বৈষম্য। রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সেই বাধা দূর করতে দেশের কর্পোরেট মহলকে এগিয়ে আসার বার্তা দিলেন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উচ্চপদে থাকা মহিলা আধিকারিকেরা। তাঁদের মতে, প্রযুক্তিতে মহিলা কর্মীরাও নতুন দিশা দেখাচ্ছেন। তাঁদের শুধু কর্মী হিসেবে সংস্থার অংশীদার করলেই চলবে না। বরং নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা দরকার। যাতে তাঁরা কর্মজীবনের মধ্য গগণে কাজ ছাড়তে বাধ্য না হন। সে জন্য প্রয়োজনে কর্পোরেটকে ঢেলে সাজাতে হবে নিজেদের নীতি তথা কর্মক্ষেত্র।
তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতে কৃত্রিম মেধা (এআই) ক্ষেত্রে মহিলাদের নিয়োগ ২৬% থেকে বেড়ে ৩১% হয়েছে। শুধু প্রাথমিক স্তর নয়, বরং ৭-১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মহিলাদের এবং শীর্ষ পদেও তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বিভিন্ন সংস্থা এখন মেয়েদের জন্য কাজের উপযোগী পরিবেশ ও অনলাইন শিক্ষার জন্য সুযোগ তৈরি করছে। কিন্তু এখনও নেতৃত্বের জায়গায় তাঁদের অংশীদারি খুবই কম।
স্টেট ব্যাঙ্কের প্রাক্তন কর্ণধার এবং বর্তমানে সেলসফোর্সের দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং সিইও অরুন্ধতী ভট্টাচার্ষের মতে, ‘‘এই প্রজন্মের মহিলারা অনেক বেশি শিক্ষিত, বিশ্বের সঙ্গে খুব ভাল ভাবে জড়িত এবং অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। ...এখন দরকার আমাদের নিজেদের মনোভাবের বদল।’’ একই বার্তা দিয়েছেন
এপি মোলার-মায়েরস্কের প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রেশম শাহি।
আর টেক মাহিন্দ্রার সিআইও পল্লবী কাটিয়ারের বক্তব্য, ‘‘এই প্রজন্ম নেতৃত্ব বিষয়টিকে স্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখে।’’ স্যাপ ল্যাবস ইন্ডিয়ার এমডি এবং ন্যাসকমের চেয়ারপারসন সিন্ধু গঙ্গাধরনের দাবি, ‘‘মহিলারা এখন সক্রিয় ভাবে পণ্য তৈরি করছেন। বিভিন্ন উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’’ তাঁর মতে, আগামী দশকে ভারতের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য আরও কমার সম্ভাবনা। তবে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংস্থাগুলিকে নীতি বদলাতে হবে। পাল্টাতে হবে কর্মরত মহিলাদের পরিবারের মনোভাবও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)