E-Paper

দেশের বাজারে বাড়বে না তেলের দাম, প্রভাব পড়বে না মূল্যবৃদ্ধিতেও, দাবি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে সোমবার বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল ছাড়িয়েছিল ১০০ ডলার। এ দিকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেল ভান্ডার উপচে পড়ার যুক্তিতে উত্তোলন কমাচ্ছে সৌদি আরব। এই প্রেক্ষিতে আশঙ্কা বাড়ছে ভারতে জ্বালানির দাম বাড়বে কি না, তা নিয়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৯
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। —ফাইল চিত্র।

বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে ভারতে মূল্যবৃদ্ধি মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। যদিও সোমবার সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। লোকসভায় বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম দিনে এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তাঁর দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর আগে গত এক বছরে ভারত যে বাস্কেট থেকে তেল কেনে, তার দাম ক্রমশই কমেছে। তার উপরে দেশে এখন মূল্যবৃদ্ধির হার রয়েছে লক্ষ্যমাত্রার নিম্নসীমার কাছে (ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২.৭৫%)। ফলে মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাবের আশঙ্কা কার্যত নেই। পাশাপাশি, দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছে সরকারি সূত্র। দাবি, ভারতে যথেষ্ট জ্বালানি রয়েছে। অশোধিত তেল ব্যারেলে ১৩০ ডলার না ছাড়ালে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংগঠনের ডাকে দেশের কৌশলগত মজুত ভান্ডার থেকে তেল ছাড়ার আহ্বানও কেন্দ্র খারিজ করেছে বলে দাবি সূত্রের।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে সোমবার বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল ছাড়িয়েছিল ১০০ ডলার। এ দিকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেল ভান্ডার উপচে পড়ার যুক্তিতে উত্তোলন কমাচ্ছে সৌদি আরব। এই প্রেক্ষিতে আশঙ্কা বাড়ছে ভারতে জ্বালানির দাম বাড়বে কি না, তা নিয়ে। সরকারি সূত্র অবশ্য জানাচ্ছে, দেশের পাম্পে পেট্রল-ডিজ়েলের অভাব নেই। হরমুজ প্রণালী ছাড়া বিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে তেল কিনছে ভারত। বরং বহু দেশ নয়াদিল্লির কাছেই তেল কেনার দরবার করছে। বিমান জ্বালানিতেও সমস্যা নেই। বিরোধীদের যদিও অভিযোগ, রাজ্যসভায় প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্র ৪১টি দেশ থেকে তেল কেনার কথা বললেও, সেগুলির নাম, কতটা কেনা হচ্ছে, খরচ কত ইত্যাদি তথ্য দেয়নি।

আর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ভারতের বাস্কেটের দাম ব্যারেলে ৬৯.০১ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০.১৬ ডলার। কিন্তু দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার রয়েছে নিম্নসীমার কাছে। তাই এখনই তাতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।’’ তাঁর আরও দাবি, অক্টোবরে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি রিপোর্টে অনুমান ছিল, অশোধিত তেলের দাম ১০% বাড়লে ও সেই অনুসারে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে মূল্যবৃদ্ধি মাথা তুলতে পারে ৩০ বেসিস পয়েন্ট। কিন্তু মাঝারি মেয়াদে সেই প্রভাব নির্ভর করে টাকার দাম, তেলের চাহিদা-জোগান, সুদের ওঠাপড়া, সার্বিক মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ের উপরে।

এর আগেই কেন্দ্রের দাবি ছিল, চাহিদা মেটাতে পশ্চিম এশিয়া ছাড়াও বিভিন্ন দেশের থেকে তেল কেনা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। নয়াদিল্লিকে রাশিয়ার তেল কেনায় ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছে আমেরিকা। দাবি করেছে, এ জন্য দরবার করেছিল মোদী সরকার। যদিও সেই বার্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। কারণ, আমেরিকার জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের দাবি, সমুদ্রেপথে আটকে থাকা রুশ ট্যাঙ্কারে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল যাচ্ছিল চিনে। নয়াদিল্লিকে ওই তেল কিনে ভারতের শোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে তারাই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nirmala Sitharaman Indian Economy West Asia US-Israel vs Iran

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy