বালিগঞ্জের অভিজাত ক্লাবে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল শহরের নামী ব্যবসায়ী সাওয়ারমল ভিমসারিয়ার। এ দিন সকালে ৭৪ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ীকে ক্লাবের পিছন দিকে বেসমেন্টের পার্কিং লটের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বালিগঞ্জ থানা এবং কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। পুলিশ সূত্রে খবর, ক্লাবের ১০ তলার ছাদের উপর যে লিফ্টরুম রয়েছে সেখানে একটি মোবাইল ফোন, মৃতের একটি ভিজিটিং কার্ড এবং একটি হাতে লেখা চিরকূট পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীরা প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন, ১০ তলার উপর থেকে পড়েই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যবসায়ীর। মোবাইল ফোন, চিরকূট এবং কার্ড দেখে পুলিশের সন্দেহ, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে এখনও বাকি দিকগুলি খতিয়ে না দেখে পুলিশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নয়।

ক্লাবের কর্মীদের সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে, তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিটের বাসিন্দা সাওয়ারমল অন্য দিনের মতোই সকালে ক্লাবে পৌঁছন প্রাতর্ভ্রমণের জন্য। সেই সময় যে নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন তাঁর সঙ্গে কথাও হয় সাওয়ারমলের। ওই নিরাপত্তা রক্ষীর দাবি, তাঁকে কখনই অস্বাভাবিক মনে হয়নি।পুলিশ সূত্রে খবর, এর কিছুক্ষণ পরেই ক্লাবের কর্মীরা জোরালো একটি আওয়াজ পান ক্লাবের পিছন দিকে বেসমেন্ট পার্কিং থেকে গাড়ি বেরনোর রাস্তায়। সেখানে গিয়েই তাঁরা দেখেন যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই বৃদ্ধ। সঙ্গে সঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কলাকাতার মাড়োয়ারি সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা ওই ব্যবসায়ী শেয়ার কেনাবেচার পাশাপাশিনির্মাণ-সহ একাধিক ব্যবসা করতেন। ১৯৯৪ সালে তিনি কলকাতা পুরসভার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রসের টিকিটে জিতে। তিনি বোরো চেয়ারম্যানও ছিলেন।

আরও পড়ুন:  কলকাতায় ‘কাটমানি’ চেয়ে খুনের হুমকি, ব্যবসায়ীর হয়ে নিজেই এফআইআরে সই করল পুলিশ!

আরও পড়ুন:  ভোগানোয় ‘সফল’ ট্যাক্সি, ক্যাবের ধর্মঘট

 

প্রাথমিক ভাবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মানসিক অবসাদের ইঙ্গিত রয়েছে ওই চিরকূটে। তদন্তকারীরা তাঁর ব্যবসা নিয়েও খোঁজ নিচ্ছেন। এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ‘‘ব্যাবসায় মন্দা চলছিল কি না তাও আমরা দেখছি। তবে প্রাথমিক ভাবে আমাদের সন্দেহ তাঁর মৃত্যুর পিছনে ব্যবসা একটি কারণ।”