• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মেক্সিকোয় আটকে সল্টলেকের প্রবীণ দম্পতি

sandip and Swati
সন্দীপ এবং স্বাতী সেন।

ভারতে যে সময়ে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ করা হল, সেই সময়ে তাঁরা মেক্সিকো সিটির একটি হোটেলে। উড়ান বন্ধের ঘোষণা শুনে দিশাহারা দম্পতি দেশে ফেরার বিমানের খোঁজ করতে শুরু করেন। জানতে পারেন, পরের দিন নিউ ইয়র্ক থেকে বিমান ছাড়বে। কিন্তু বিমানে মেক্সিকো সিটি থেকে নিউ ইয়র্ক পৌঁছতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। তাঁদের হাতে তখন সেই সময় ছিল না। ফলে মেক্সিকোর ওই হোটেলেই আটকে পড়েন সল্টলেকের বাসিন্দা ওই দম্পতি। কী করে দেশে ফিরবেন তার কোনও দিশা পাচ্ছেন না তাঁরা। বিভিন্ন মহলে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার থেকে যোগাযোগ করেও সুরাহা হয়নি। মেক্সিকোয় আটকে পড়ে তাই উদ্বেগেই দিন কাটছে ওই দম্পতির। তাঁদের নিয়ে চিন্তিত কলকাতার আত্মীয়েরাও।

সল্টলেকের সিএল ব্লকের বাসিন্দা, পেশায় ব্যবসায়ী সন্দীপ সেন (৬৮) ও তাঁর স্ত্রী স্বাতীদেবী (৬৪) মার্চের গোড়ায় বিদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। আমেরিকা ঘুরে তাঁরা মেক্সিকো সিটিতে যান। সন্দীপবাবু জানান, ২১ মার্চ তাঁদের নিউ ইয়র্ক থেকে বিমান ধরে দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ১৯ মার্চ তাঁরা জানতে পারেন যে ভারতে আন্তর্জাতিক উড়ান চলাচল বন্ধ করা হচ্ছে। ২১ মার্চের নির্ধারিত বিমান ধরলে কলকাতায় তাঁরা নামতেন ২২ মার্চ রাত ২টো নাগাদ। কিন্তু সে দিনই রাত ১২টা থেকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ হয়। তাই তাঁরা নিউ ইয়র্ক থেকে ২০ মার্চের বিমানের খোঁজ করেন। কিন্তু মেক্সিকো সিটি থেকে ওই সময়ের মধ্যে নিউ ইয়র্কের বিমান ধরা সম্ভব ছিল না তাঁদের পক্ষে। ফলে সেখানেই আটকে পড়েন তাঁরা।

আরও পড়ুন: লকডাউন সফল করতে কড়া নজর অলিগলিতে

ওই দম্পতি জানান, তাঁদের হাইপারটেনশন, কোলেস্টেরল ও ডায়াবিটিসের সমস্যা রয়েছে। তাঁদের কাছে যা ওষুধ ছিল তা ফুরিয়ে আসায় বর্তমানে স্থানীয় দোকান থেকে সমগোত্রীয় কিছু ওষুধ কিনে কাজ চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: বন্ধ দোকান, ক্রেতা-বরণে বাতিল মিষ্টিমুখ

সন্দীপবাবু জানান, ঘুরতে যাওয়া আগেই ঠিক হয়েছিল। তখনও করোনা বিশ্ব জুড়ে থাবা বিস্তার করেনি। তিনি জানান, আমেরিকা, মেক্সিকো থেকে তাদের দেশের নাগরিকদের ফিরতে বলেছে। মেক্সিকোতেও উড়ান বন্ধ হতে পারে যে কোনও সময়ে। ফলে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে সন্দীপবাবুদের। এমনকি হোটেলের বাইরে থেকে খাবার কিনেও খেতে হচ্ছে। সন্দীপবাবু ও তাঁর পরিবার দূতাবাস থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ইমেলে তাঁদের অবস্থার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। ইতিমধ্যে ভারতে লকডাউনের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। ফলে কী ভাবে দেশে ফিরবেন, তাঁর কোনও দিশা পাচ্ছেন না ওই প্রবীণ দম্পতি।

 

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন