• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আগেও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবা-মাকে খুন করতে চেয়েছিল মেয়ে-জামাই!

murder
এই ব্যাগে দেহ পাচার করতে গিয়েই ধরা পড়ে যায় অভিযুক্তরা। —নিজস্ব চিত্র।

চায়ের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাবা-মাকে খুন করতে চেয়েছিলেন স্নেহা সামুই। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। স্নেহা এবং তাঁর স্বামী রাজু সামুইয়ের সন্দেহ ছিল, এ ভাবে তাঁরা মরতে না-ও পারেন। তাই গত ১৪ অগস্ট রাতে চায়ে ঘুমের ওষুধ মেশাতে গিয়েও পিছিয়ে আসেন তাঁরা। এর পর গলার নলি কেটে মাকে খুন করার ছক কষেন স্নেহা। গত রবিবার পরিকল্পনা মাফিক ক্ষুর নিয়ে পর্ণশ্রী থানা এলাকার বাসুদেবপুরের ফ্ল্যাটে আসেন রাজু। মধ্য রাতে শম্পা চক্রবর্তীকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। তার পর ক্ষুর দিয়ে গলার নলি কাটেন রাজু। মায়ের এই পরিণতি দেখে ফ্ল্যাটের ছাদে চলে গিয়েছিলেন স্নেহা। পরে নীচে নেমে আসেন।

মাকে খুনের পর দেহ লোপাটের পর্ব শুরু হয়। ওই রাতে বাবা ভূপাল চক্রবর্তী বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। সন্ধ্যাবেলায় তিনি আলিপুরে কর্মস্থলে চলে যান। ফাঁকা ফ্ল্যাটে মা একাই ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের পর চাদর দিয়ে পেঁচানোর পর, নাইলনের দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল। তার পর ট্রলি ব্যাগের মধ্যে দেহ ঢোকানো হয়।

এর পর ঘরে রক্তের দাগ মুছে ব্যাগটি ফ্ল্যাটের বাইরে রাখা সাইকেলে তোলা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, পরে বাইকে করে ওই ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে জন্য রাজু এক বন্ধুর কাছে বাইক চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দিতে রাজি হননি। বাইক না পেয়ে অন্য এক পরিচিতের সাইকেল নিয়ে আসেন রাজু। ওই সাইকেল করে দেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এত বড় ব্যাগ ওই সাইকেলে তোলার পর তা রাস্তায় পড়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে, ব্যাগ ফেলে দু’জনেই পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন: কাশ্মীর দ্বিপাক্ষিক ইস্যু, ট্রাম্পের সামনেই বললেন মোদী, মধ্যস্থতার প্রসঙ্গে নীরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট​

ফ্ল্যাট থেকে যখন সাইকেলে তোলা হচ্ছিল ট্রলি ব্যাগটি, তখন এক প্রতিবেশী বিষয়টি দেখেও ফেলেন। তিনি মোবাইলে ভিডিয়োও তোলেন। মেয়ে-জামাই ধরা পড়ার পর নিজেদের দোষ স্বীকারও করে নেন। রাজুকে পছন্দ করতেন না তাঁর শাশুড়ি শম্পাদেবী। বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য তিনি রাজুর উপরে চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ স্নেহার।

আরও পড়ুন: ‘শেষ দেখে ছাড়ব,’ জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ইমরানের নিশানায় বিজেপি-সঙ্ঘ​

পুলিশের এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, “আক্রোশ এবং ফ্ল্যাট হাতানোর লোভে স্নেহা এবং রাজু এই খুনের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার আগে শম্পাদেবীর মোবাইলের সিম খুলে নেয় স্নেহা। ওই সিম অ্যাক্টিভেট করে ঘটনার রাতে স্নেহার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রাজু। এমনকি ওই সিম ব্যবহার করে স্নেহাকে এসএমএসও করেছে। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করেতে এমনই পরিকল্পনা করে রাজু।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন