পার্ক স্ট্রিটে মেট্রোয় যাত্রীমৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নামল রেল বোর্ড।যে মেট্রো রেকের দরজায় হাত আটকে মৃত্যু হয়েছিল সজল কাঞ্জিলাল, সোমবার কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি (সিআরএস) শৈলেশ গর্গ সেটি পরীক্ষা করে দেখেন। রেকের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে, নাকি চালকের ভুল ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এ দিন পার্ক স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিআরএস। খুঁটিনাটি সব বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পর সেখান থেকে তিনি যান টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনে। সেখানেই আপতত রয়েছে ওই রেকটি।শৈলেশ নিজেই রেকটি পরীক্ষা করে দেখেন। তাঁর সঙ্গে এ দিন ছিলেন মেট্রো রেলের ইঞ্জিনিয়ারাও।পরীক্ষার পর সিআরএস বলেন, “কী কারণে দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে সময় লাগবে। এখনই কিছু বলা যাবে না। এর পর জিজ্ঞাসাবাদ হবে।”

অভিযোগ, আগেই ওই এসি মেট্রোর রেকগুলিতে‘রোগ’ বাসা বেধে ছিল। সে কারণেই চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্র্যাল কোচ ফ্যাক্টরি (আইসিএফ) থেকে কলকাতায় ধাপে ধাপে আনা পাঁচটি ‘মেধা’ রেক পৌঁছনোর পরেও সেগুলি ট্র্যাকে নামানো যাচ্ছিল না। প্রায় দু’বছর ধরে রেকগুলির ঠাঁই হয়েছিল নোয়াপাড়া কারশেডে।২০১৭-র জুলাইয়ের পরে চেন্নাই থেকে আসা প্রথম তিনটি রেক নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল। কোনওটার যন্ত্রাংশ ঠিক নেই, কোনওটার প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে, আবার ব্রেকের সমস্যা, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম থেকে শুরু করে মোটরের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিয়েও নানা অভিযোগ ছিল। পরীক্ষামূলক দৌড়েও মুখ থুবড়ে পড়েছিল রেকগুলি। এর পর মেরামতি করে নামানো হয় দু’টি রেক। তারই একটিতে শনিবার উঠতে গিয়ে হাত আটকে মারা যান সজল কাঞ্জিলাল।

আরও পড়ুন: এলাকায় চুরি রুখতে আরও সক্রিয় হতে নির্দেশ নগরপালের, বার্তা দিলেন শহিদ দিবস নিয়েও​

গত শনিবার ওই ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আদৌ কি ওই রেকটি ত্রুটিমুক্ত ছিল? যদিও রেলের তরফে ‘ফিট সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পরই রেকগুলি নামানো হয়। অভিযোগ, তার পরেও মাঝেমধ্যে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। তার মধ্যে রেকের দরজার সমস্যাও ছিল বলে মেট্রো সূত্রে খবর। গত শনিবার তেমন কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেইওই ঘটনা ঘটেছিল কিনা, তাখতিয়ে দেখছেন কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি।

মেট্রো সূত্রে খবর, সে দিন ওই রেকের তৃতীয় কামরায় উঠতে গিয়েছিলেন সজল কাঞ্জিলাল। তাঁর হাত আটকে গিয়েছিল দরজায়। তিনি ওই অবস্থাতেই দরজার বাইরে ৪-৫ ইঞ্চি জায়গার মধ্যে কোনও রকমে দাঁড়িয়ে পড়েন। তার পর ছুটতে শুরু করে মেট্রো। দরজা বন্ধ না হলে তা জানতে পারবেন মোটরম্যান বা চালক। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি সেনসার কাজ করেনি? সে কারণেই কি ওই অবস্থাতেই মেট্রো চলতে শুরু করেছিল?

ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের বয়ানে জানা গিয়েছে, প্রথমে মেট্রোর গতি খুব একটা বেশি ছিল না। তার পর গতি বেড়ে যায়। ওই অবস্থাতেই স্টেশন থেকে প্রায় ৬০ মিটার এগিয়ে যায় রেক। স্টেশনে কর্মরত আরপিএফ-এর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেট্রো ছাড়ার আগে এমন ঘটনা সিসি ক্যামেরাতে ধরা পড়লেও, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া গেল না কেন? আরপিএফ কর্মীরাও বা কোথায় ছিলেন?

ওই এসি রেকটি পরীক্ষা করে দেখছেন কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি শৈলেশ গর্গ। —নিজস্ব চিত্র।
আরও পড়ুন: 
কর্নাটকে আস্থা ভোট বৃহস্পতিবার, পুলিশি নিরাপত্তা চাইলেন বিক্ষুব্ধরা​

মেট্রো রেল সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর ‘ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি’ (আইসিএফ)-র আরও একটি রেক বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।