শহরের পরিবেশ ও ঐতিহ্যের উপরে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। সে কারণে তিন মাস আগেই পুরনো একটি দফতর তুলে দিয়ে নতুন দফতর তৈরি করেছিল কলকাতা পুরসভা। পুর কর্তৃপক্ষের তরফে সমস্ত নথি ও তথ্য-ভাণ্ডারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু সেই নতুন দফতর, ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য’ (এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেরিটেজ) কোথায়? আপাতত তারই খোঁজ পড়েছে পুরসভায়। অন্তত খাতায়কলমে তার কোনও অস্তিত্বই খুঁজে পাচ্ছেন না পুরকর্তারা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, অনেকে রসিকতা করে এ-ও বলছেন, নতুন দফতরের খোঁজ করতে গেলে তো গোয়েন্দা নিয়োগ করতে হবে! কারণ, ‘প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট’ (পিএমইউ) তুলে দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য’ দফতর। অথচ সেই পিএমইউ দফতরের নামেই পুরসভার সব কাজকর্ম হয়ে চলেছে। এমনকি দরপত্র আহ্বানের মতো কাজও।

পুরসভা সূত্রের খবর, ২৩ এপ্রিলে ওই নতুন দফতর তৈরির পর থেকে এখনও পর্যন্ত ২৪ বার পুরসভার দরপত্র-পুস্তিকা (টেন্ডার বার্তা) প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ এক বারও সেখানে ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য’ দফতরের কোনও উল্লেখ নেই। বরং যে দফতরটি তুলে দেওয়া হয়েছে, সেই দফতরের নামেই দিনের পর দিন দরপত্র আহ্বান করা হয়ে চলেছে। যেটা ‘চূড়ান্ত অনিয়ম’ বলছেন পুরকর্তারা। তাঁদের আরও প্রশ্ন, যেখানে নির্দেশিকা জারি করে একটি নতুন দফতর তুলে দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের পদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয়েছে এবং পুরসভার সমস্ত নথিতে তা বদল করতে বলা হয়েছে, সেখানে এই ‘অনিয়ম’ চলে কী ভাবে? দরপত্রে দফতরের জায়গায় পিএমইউ-এর নাম উল্লেখ করায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। কারণ, দরপত্র ডাকা হচ্ছে ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য’ দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল বা এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের নামে! এক পদস্থ পুরকর্তার কথায়, ‘‘পুরনো দফতরের নামেই যদি দরপত্র আহ্বান করা হতে থাকে, তা হলে ঢাকঢোল পিটিয়ে, নির্দেশিকা জারি করে নতুন দফতর তৈরির অর্থ কী হল! পুরনো দফতরের তো কোনও অস্তিত্বই নেই!’’

পুরনো দফতর ‘প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট’-এর নামেই (চিহ্নিত) ডাকা হয়েছে পুরসভার টেন্ডার।

পুর কর্তৃপক্ষের অবশ্য যুক্তি, অনেকেই এখনও নতুন দফতরের নামে সড়গড় হতে পারেননি। তাই কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরনো দফতরের নামেই কাজকর্ম হচ্ছে। বিশেষ করে বাইরের লোকজন, যাঁরা ওয়াকিবহাল নন দফতরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে, তাঁরা যদি পিএমইউ দফতরের নামে চিঠি দেন, তা গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু দফতরের কাজের ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। মেয়র পারিষদ (পরিবেশ) স্বপন সমাদ্দারের আবার দাবি, ‘‘যে প্রকল্পের জন্য দরপত্রগুলি ডাকা হচ্ছে, সে সবের অনুমোদন হয়তো আগেই হয়ে গিয়েছে। নতুনগুলির ক্ষেত্রে পরিবেশ ও ঐতিহ্য দফতরের নামেই ডাকা হচ্ছে।’’

দফতরের নাম পরিবর্তন এবং পুর নীতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে জারি করা নির্দেশিকা।

কিন্তু মেয়র পারিষদ যা-ই বলুন না কেন, গত ১২ জুলাই, সদ্য আহ্বান করা দরপত্রেও দেখা গেল সেই পিএমইউ দফতরেরই জয়জয়কার। নিখোঁজ শুধু সেই ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য’ই! 

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।