ভর দুপুরে কলকাতা শহরে ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা। সেনা এবং পুলিশের পোশাক পরে ছিল অপহরণকারীরা। জানা গিয়েছে, বাধা পেয়ে গুলিও চালায় অপহরণকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, গুলি চলার ঘটনাটি ঘটেছে নিউ আলিপুর থানার সাহাপুর কলোনিতে। ওই ব্যাবসায়ী শেষ পর্যন্ত অপহরণকারীদের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারলেও,  তাঁর তিন সঙ্গী এখনও নিখোঁজ। ব্য়াবসায়ীর দাবি, ওই তিন সঙ্গীরা এখনও রয়েছে অপহরণকারীদের কবলে।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্ত নেমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় সঞ্জয় রায়কে। তাকে জেরা করে বাকি চারজনের খোঁজ পায় পুলিশ। ধৃতরা হল রাজা দত্ত, তপন সাহা, শম্ভু সোনি এবং পরিমল রায়। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ভ্রমণ সংস্থার মালিক ব্যবসার কাজে গিয়েছিলেন বাটানগর এলাকায়। সেখান থেকে ফেরার পথে কয়েক জন দুষ্কৃতী জিঞ্জিরা বাজারের কাছে তাঁকে অস্ত্র দেখিয়ে অপহরণ করে। অপহরণ করা হয় তাঁর চার সঙ্গীকেও। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, কোনও টাকা পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত গন্ডগোলের জেরে এই অপহরণ। পুলিশকে প্রাথমিকভাবে ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল ওই সশস্ত্র অপহরণকারীরা। তিনি বলেন, সংখ্যায় সাত আটজন ছিল তারা। প্রত্যেকেই সেনার পোশাকে ছিল।

অপহৃত ব্যবসায়ী দুষ্কৃতীদের দাবি মতো টাকা পয়সার লেনদেন করতে অপহরণকারীদের নিজের সাহাপুর কলোনির অফিসে নিয়ে আসেন। সেখানে ওই ব্যবসায়ীর অফিসে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা দুষ্কৃতীদের বাগে এনে পাকড়াও করার চেষ্টা করলে তারা গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গুলি এক জনের পা ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। কেউ গুরুতর আহত হয়নি। এর পরেই ওই ব্যবসায়ী এবং অন্য অপহৃত অপহরণকারীদের হাত থেকে পালাতে পারলেও, বাকি তিন জনকে নিয়ে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। দুষ্কৃতীরা একটি পুলিশ স্টিকার দেওয়া গাড়িতে এসেছিল। তাদের পরনে ছিল জংলা ছাপ পোশাক। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর দেড়টা নাগাদ সেনার পোশাক পরা কয়েকজন ওই ব্য়াবসায়ী এবং তাঁর সঙ্গীকে হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় গাড়ি থেকে নামিয়ে ভ্রমণ সংস্থার অফিসে নিয়ে যায়। প্রথমে এলাকার মানুষ ভেবেছিলেন পুলিশ গ্রেফতার করেছে ওই ব্যবসায়ীকে। পরে ওই ব্যবসায়ী চেঁচিয়ে বলেন যে তিনি অপহরণকারীদের কবলে। ওই ব্যবসায়ী চিৎকার করতেই অপহরণকারীরা গুলি চালায়। তারপরই গাড়িতে থাকা ব্যাবসায়ীর বাকি তিন সঙ্গীকে নিয়ে চম্পট দেয়।

নিউ আলিপুর থানার পুলিশ ছাড়াও, কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। তাঁরা রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছেন ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে জানতে। এক পুলিশ কর্তা বলেন, গোটা ঘটনা এবং ওই ব্যবসায়ীর বয়ানে বেশ কিছু ধোঁয়াশা রয়েছে।

আরও পড়ুন- জেসিবি মেশিন দিয়ে ঘর ভাঙার সময় দেওয়াল চাপা পড়ে শিশুর মৃত্যু, উত্তেজনা নোনাডাঙায়​

আরও পড়ুন- পণের দাবিতে বিয়ের ১২ দিনে ২০ বছরের বধূকে পুড়িয়ে খুন রায়গঞ্জে​