E-Paper

খাদ্যের উৎসসন্ধানে ঐতিহাসিক অভিযাত্রা

কেউ পেশাদার ‘প্রক্সি’, টাকার বিনিময়ে রোগীর বাড়ির লোক সেজে ডাক্তারের সঙ্গে মিটিং, রোগীর ব্যবস্থা করে।

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভারতের জাতীয় খাবার কী, সেই তালিকায় প্রথম নামই যদি হয় ‘বিরিয়ানি’, কেউ সম্ভবত অবাক হবেন না। একটি হিসাব দিয়েছেন লেখক: ২০২৪-এ বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ থেকে মোট ১৭ কোটি প্লেট বিরিয়ানির হোম ডেলিভারি অর্ডার হয় গোটা দেশে। কিন্তু ভারতে বিরিয়ানি এল কবে, কোন পথে? বিবিধ সূত্র ধরে উত্তর খুঁজেছেন লেখক— উপনিষদ থেকে তামিল সঙ্গম সাহিত্য, মধ্যযুগীয় লেখালিখি, স্মৃতিকথা, কুকবুক। অনেক আশা করে কোনও সূত্র দেখার পর কী ভাবে হতাশ হতে হয়েছে, রয়েছে সেই বর্ণনাও। নীলাঞ্জন হাজরা গত এক দশকে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সেই বিরল গোত্রে— যিনি খাদ্যের উৎসসন্ধানে পাঠককে নিয়ে যান ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায়। বিরিয়ানি যে শেষ পর্যন্ত আনন্দের সর্বজনীনতায় পৌঁছয়, তার ইঙ্গিতও রয়েছে: “পরম পরিতোষের বিষয় যে, আমার বাড়ির দরিদ্র পরিচারিকাও তাঁর পুত্র-কন্যার জন্মদিনে পাড়ার বিরিয়ানি সেন্টার... থেকে দু’বাক্স বিরিয়ানি কিনতে পারেন।”

বিরিয়ানি বন্দিশ

নীলাঞ্জন হাজরা

৫০০.০০

ধানসিড়ি

সরকারি হাসপাতাল এক বিচিত্র ঠাঁই, কত চরিত্রের দেখা মেলে সেখানে। কেউ পেশাদার ‘প্রক্সি’, টাকার বিনিময়ে রোগীর বাড়ির লোক সেজে ডাক্তারের সঙ্গে মিটিং, রোগীর ব্যবস্থা করে। কারও পরিচয় মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে আত্মহত্যাপ্রবণ রোগীর ‘অ্যাটেন্ড্যান্ট’ রূপে, তাঁকে কাজে রাজি না করালে চিকিৎসক মনোরোগীকে ওয়র্ডে ভর্তি করাতে রাজি হন না। সদ্য-পুত্রহারা বাবার ডোমের সঙ্গে দরাদরি, ফিচেল মোবাইল-চোরের চম্পট, নানা দৃশ্যের অভিনয়, অবিরত। সরকারি হাসপাতালের এই চেনা-অচেনা মানুষ নিয়ে লেখা বইটি। অধ্যায়গুলি এক-একটি কল্পিত সংলাপ, অনেক ক্ষেত্রে একাধিক কথক, তাদের কথায় একাধিক ঘটনা উপস্থাপিত। নানা যুক্তি-তথ্য পেশ করায় লেখার বাঁধুনি একটু শিথিল হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে মানবিক সঙ্কটের সালতামামি এই বই। তবে পশ্চাৎপ্রচ্ছদে ‘সব পাঠকের জন্য অমূল্য উপহার’ বা ‘ভারতীয় ভাষায় এই প্রথম’ প্রভৃতি বিজ্ঞাপনধর্মী বাক্য বিস্মিত করে।

হাসপাতালের গল্প

শ্যামল চক্রবর্তী

৫০০.০০

দে’জ

একুশ শতকের ভারতেও শিশু দত্তক নেওয়া নিয়ে সমাজমনের যে প্রতিফলন দেখা যায়, তা সদর্থক নয়। দত্তক ব্যবস্থায় আগ্রহী নাগরিক বা দম্পতিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষেই এ সত্য: তথ্যবিভ্রান্তি, আইন জটিলতা নিয়ে আশঙ্কা, সামাজিক সমর্থন ও সর্বোপরি দত্তক হিসেবে নেওয়া শিশুটি কেমন থাকবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা— এই সবই সামনে এসে দাঁড়ায়। বইটি সেই উদ্বেগ নিরসনে সহায়ক হবে। দীর্ঘকাল রাজ্য ও জাতীয় স্তরে শিশু সুরক্ষা, শিশু অধিকার ও দত্তক বিষয়ক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা লেখকদ্বয়কে এ-বই লিখতে প্রাণিত করেছে; তাঁরা জানেন, দত্তক নিতে আগ্রহী ভারতীয় ও দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদেরও মনে কোন প্রশ্নগুলি পীড়া দেয়। প্রশ্নগুলির একটি বড় অংশ আইন বিষয়ক, অপর অংশটি মনস্তাত্ত্বিক। একটি শিশুকে ঘিরে এক, দুই বা তারও বেশি মানুষের জীবন পাল্টে যাওয়ার যাত্রাপথে এই ‘হ্যান্ডবুক’ কাজে দেবে। সহজ ভাষায় লেখা, বাস্তব অভিজ্ঞতার তথ্য ব্যবহারে আরও আকর্ষণীয়।

পঞ্চুলাল

প্রিয়ম্বদা দেবী

১৭৫.০০

বিচিত্রপত্র গ্রন্থন বিভাগ

নানা সময়ের সন্দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় প্রিয়ম্বদা দেবীর এই শিশুতোষ কাহিনি। সুকুমার রায় যখন সম্পাদক, তখন এর কিছু অলঙ্করণ করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী; পরে ষাটের দশকে নবপর্যায়ের সন্দেশ-এ সত্যজিৎ রায়ের করা চমৎকার অলঙ্করণ-সহ, আরও পরে সন্দীপ রায়ের সম্পাদনাকালেও পুনর্মুদ্রিত। ছুতোর অন্তা আর তার ‘হাতে গড়া’ কাঠের পুতুল পঞ্চুলালের বিচিত্র কাণ্ডকারখানা একালেও ছেলেবুড়োর মন ভোলানোর ক্ষমতা ধরে— বস্তুত সেই উদ্দেশ্য সাধনেই গ্রন্থাকারে প্রকাশ। অবনীন্দ্রনাথের বুড়ো আংলা, কার্লো কোলোদি-র দি অ্যাডভেঞ্চারস অব পিনোকিয়ো মনে পড়ায় প্রিয়ম্বদা দেবীর কলম, এমনই অনায়াস গতি আর ভরপুর সরসতা তার।

আ হ্যান্ডবুক অন অ্যাডপশন: ফ্রিকুয়েন্টলি আস্কড কোয়েশ্চনস

সুপ্রিয় সরকার, জয়দেব মজুমদার

মূল্য অনুল্লিখিত

জেপিআইএসসি

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Food Review biriyani

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy