প্রায় এক মাস আগে টিকিট কেটেছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় আসন নিশ্চিতও হয়। কিন্তু, রবিবার দুপুরে ট্রেন ধরতে স্টেশনে এসে জানতে পারলেন, বেশ কিছু দিন হল ট্রেনটি বাতিল। এমনই অভিযোগ দুর্গাপুরের ডিএসপি টাউনশিপের রামকৃষ্ণ অ্যাভিনিউয়ের সুজিত বিশ্বাসের। শেষমেশ সড়কপথে গাড়ি ভাড়া করে প্রয়াগরাজের (ইলাহাবাদ) দিকে রওনা দিলেন তিনি।

দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের কর্মী সুজিতবাবু জানান, ৩ মার্চ দুর্গাপুর থেকে ইলাহাবাদ যাবেন বলে ৫ ফেব্রুয়ারি হাওড়া-শ্রীগঙ্গানগর জংশন ‘উদ্যান আভা তুফান এক্সপ্রেসে’ ছ’জনের ই-টিকিট কাটেন। টিকিট নিশ্চিত হয়নি। ‘ওয়েটিং’ তালিকায় ছিলেন সুজিতবাবুরা। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তাঁদের আসনগুলি নিশ্চিত হয়েছে বলে মোবাইলে এসএমএস আসে বলে জানান তিনি। সেই মতো রবিবার সকালে স্নান খাওয়া সেরে, ব্যাগপত্র নিয়ে ছ’জন দুর্গাপুর স্টেশনে পৌঁছন। ট্রেনটির দুর্গাপুরে সময় ছিল দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিট। কিন্তু ট্রেনের কোনও ঘোষণা না হওয়ায় সুজিতবাবুরা খোঁজখবর শুরু করেন। জানা যায়, ট্রেনটি বাতিল।

এর পরেই সুজিতবাবু যোগাযোগ করেন যেখান থেকে ই-টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু টিকিটগুলি কিছুতেই বাতিল করা যায়নি বলে জানান সুজিতবাবু। এই পরিস্থিতিতে রেলের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান সুজিতবাবু।  

সুজিতবাবু বলেন, ‘‘পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেশনে এসে চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ট্রেন নেই। অথচ ইলাহাবাদ যেতেই হবে। না গেলে ফেরার ট্রেনও মিলবে না। এমন যাত্রী-হেনস্থা কোনও ভাবেই মানা যায় না।’’ ইলাহাবাদ থেকে ফিরে রেলের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলাও করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিবার্য কারণে গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ট্রেনটির যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ট্রেনটি এখন আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট থেকে শ্রীগঙ্গানগর জংশন পর্যন্ত চলাচল করছে। রেলের ওয়েবসাইটে সে কথা উল্লেখও করা আছে। কিন্তু তা হলে দুর্গাপুর থেকে কী ভাবে টিকিট মিলছে, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক রাহুল রঞ্জন জানান, ট্রেন বাতিলের সময়সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সময়সীমা বাড়ানোর পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জারির মাঝে কেউ চাইলে টিকিট পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু পরে যাত্রীদের মোবাইলে ট্রেন বাতিলের এসএমএস পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। রাহুলবাবুর দাবি, ‘‘হয়তো দুর্গাপুরের ওই যাত্রী এসএমএস-টি কোনও কারণে পাননি বা দেখেননি। তাই সমস্যা হয়েছে।’’