Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু

এরা যথার্থ নামাজ পড়বে ও রমজান মাসের মাহাত্ম্য বুঝবে? এই সন্ত্রাসবাদীরা মনুষ্য জাতির কলঙ্ক। লিখছেন এক্রামুল বারি২ জুলাই ঢাকার গুলশনে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় জঙ্গি আক্রমণে যে ভাবে নিরীহ মানুষ খুন হল, তার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এশার আজানের সময় নামাজ না পড়ে এরা মানুষ মারতে এসেছে, জানি না এ কেমন মুসলমান।’

শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০১৬ ০০:০০

২ জুলাই ঢাকার গুলশনে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় জঙ্গি আক্রমণে যে ভাবে নিরীহ মানুষ খুন হল, তার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এশার আজানের সময় নামাজ না পড়ে এরা মানুষ মারতে এসেছে, জানি না এ কেমন মুসলমান।’

‘মুসলমান’ শব্দের এক কথার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্‌-বিশ্বাসী ও আত্মসমর্পণকারী। প্রকৃত মুসলমান কোরান শরীফের বিধান অনুযায়ী তার জীবন ধারণ করবে। এ সম্পর্কে কোরান শরীফে বলা হয়েছে, তুমি সদয় হও, ‘‘যেমন আল্লাহ্‌ তোমার প্রতি সদয় এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেও না।’’ আল্লাহ্‌ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না। (২৮ সুরা কাসাস ৯৯) কোরান শরীফে আরও বলা হয়েছে, নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করা, কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকে হত্যা করল, আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। তাদের কাছে তো আমার রসুলরা স্পষ্ট প্রমাণ এনেছিল, কিন্তু এর পরও পৃথিবীতে অনেক সীমা লঙ্ঘনকারী রয়ে গেল। (৫ সুরা সাইদা ২৭-৩২)

এর পর আল্লাহ্‌ আরও বলেছেন, ‘‘যা আমি নির্ধারণ করি তাদেরই জন্য, যারা এ পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। সাবধানীদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম।’’ (২৮ সুরা কাসাস ৮৩) ‘‘আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি প্রস্তুত রেখেছি মর্মন্তুদ শাস্তি।’’ (১৭ সুরা বণি ইসরাইল ১০)

Advertisement

ইসলাম সহনশীলতা শেখায়, উদারতা শেখায়, ক্ষমা করতে শেখায়। সহানবী হজরত মহম্মদ (দ) তাঁর জীবনের প্রতি ছত্রে তা দেখিয়ে দিয়েছেন।

মানুষ খুন করার সময় সন্ত্রাসবাদীরা নিরীহ মানুষদের কলমা পড়তে বলেছিল, যেটা সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী। কোরান শরীফে বলা আছে, ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমার ধর্ম আমার কাছে (প্রিয়)। অর্থাৎ, যে যার ধর্মমতে থাকুক— যেন কোথাও কোনও জবরদস্তি না করা হয়।’ (সুরা কায়িরুন ১০৯)

হজরত মহম্মদ (দ) বলেছেন, তোমরা হিংসা করা থেকে সাবধান হও। কারণ, আগুন যেমন কাঠ বা তৃণকে দগ্ধ করে, হিংসাও তেমন সদ্‌গুণাবলিকে ধ্বংস করে। (আবু দাউদ) কোরান শরীফে বলা হয়েছে, ‘‘তোমরা ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি ক’রো না।’’ (৪ সুরা নিসা ১৭১)

ধর্ম সম্পর্কে জবরদস্তি করতেও নিষেধ করা আছে। কোরান শরীফে বলা হয়েছে, ‘‘তোমরা প্রতিপালক। ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে, তারা সকলেই বিশ্বাস করত। তা হলে কি তুমি বিশ্বাসী হওয়ার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করবে? আল্লাহ্‌র অনুমতি ছাড়া বিশ্বাস করা কারোর সাধ্য নেই। আর যারা বোঝে না, আল্লাহ্‌ তাদেরকে কলুষলিপ্ত করবে।’’ (১০ নং সুরা ইউনুস)

এই উদ্ধৃতিগুলি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, যারা প্রকৃত মুসলমান, তারা কখনও সন্ত্রাসবাদী হয় না এবং মানুষ খুন করতে পারে না।

রকমারি জঙ্গি সংগঠনগুলি মুসলমান বা ইসলামের নাম নিয়ে সারা বিশ্বে অস্থিরতা সৃষ্টি করে চলেছে। আর যা-ই হোক, এরা কখনও ইসলাম ধর্মাবলম্বী ও মুসলমান হতে পারে না। এদের কার্যকলাপের জন্য সারা বিশ্ব একটি সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছে।

এরা মুসলমান হবে কী করে? এরা যথার্থ নামাজ পড়বে ও রমজান মাসের মাহাত্ম্য বুঝবে? এই সন্ত্রাসবাদীরা মনুষ্য জগতের কলঙ্ক। এদের মানুষই বলা যায় না।

কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy