‘হার দিয়ে অভিযান শুরু যুব ভারতের’ (৭-৫) শীর্ষক সংবাদ প্রসঙ্গে এই চিঠি। এ বছর ফুটবলে চমকপ্রদ উত্থান হয়েছিল ভারতের। অনূর্ধ্ব-১৭ (পুরুষ ও মহিলা), অনূর্ধ্ব-২০ (মহিলা) এবং সিনিয়র মহিলা দল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পৌঁছে যায় তাদের নিজেদের বিভাগের এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে।
ভারতীয় ফুটবলের এই অভাবনীয় সাফল্য অনেক আশা সৃষ্টি করেছিল ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। মনে হয়েছিল, এ বার হয়তো ভারত এশিয়ান কাপের এই বিভিন্ন বিভাগের যে কোনও একটিতে দুরন্ত খেলা দেখাতে পারবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল কই। অনূর্ধ্ব-২০ মেয়েদের এশিয়ান কাপে ভাল ফল করতে পারেনি ভারত। পুরুষদের অনূর্ধ্ব-১৭ এবং সিনিয়র মেয়েদের এশিয়ান কাপের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি ঘটে। দেখা যাচ্ছে, দেশ বা বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ করে কোচ এনে বছরের পর বছর এ দেশের সিনিয়র ও জুনিয়র ফুটবলারদের তালিম দিয়ে ভারত এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলাচ্ছে বটে, কিন্তু নিট ফলাফল সেই ‘শূন্য’। দীর্ঘকাল ভারতীয় ফুটবলের এই হতশ্রী চেহারা দেখতে দেখতে মানুষ এত দিনে বুঝে গিয়েছেন যে, এই মানের ফুটবল নিয়ে কোনও বড় টুর্নামেন্ট জেতা অসম্ভব।
এ দেশের ফুটবলের বিপরীতধর্মী চেহারা দেখা যায় অন্য দু’টি দলগত খেলায়— হকি আর ক্রিকেটে। ক্রিকেটে তো বটেই, মাঝে মাঝে হকিতেও ভারত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। অথচ, ফুটবলের ক্ষেত্রে কেন এই দুরবস্থা? আসলে, ফুটবল এত সহজও খেলা নয় যে, মোটা অর্থ খরচ করে বিদেশি কোচ এনে তালিম দিলেই রাতারাতি ভোল পাল্টে যাবে ভারতীয় ফুটবলের। আধুনিক পদ্ধতি ও পরিকল্পনার মিশেলের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের নিষ্ঠা সাধনায় ফুটবলের মানের উন্নতি সম্ভব। এমন নয় যে, ভারতীয় ফুটবল কোনও দিন সুদিন দেখেনি। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০— এশিয়ান গেমস-সহ অলিম্পিক্সে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে এই সময়টিকে ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণযুগ বলা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই মান তারা ধরে রাখতে পারেনি। আগামী দিনে ফুটবলের মান উন্নত করতে হলে পরিকাঠামো থেকে খেলোয়াড়— প্রায় সব ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। না হলে বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, এশিয়ান কাপ বা সাফ গেমস-এর ফুটবল প্রতিযোগিতা পর্যন্তও পৌঁছতে পারবে না ভারত।
তাপস সাহা, শেওড়াফুলি, হুগলি
শিক্ষকের সম্মান
এক সময় সমাজে শিক্ষকতার পেশা ছিল শ্রদ্ধা, এবং আদর্শের প্রতীক। মানুষ এই পেশা বেছে নিতেন শুধু জীবিকার জন্য নয়, সমাজকে আলোকিত করার এক মহান দায়িত্ব হিসেবে। শিক্ষক ছিলেন জ্ঞানের দিশারি, নৈতিকতার পথপ্রদর্শক এবং এক আদর্শ মানুষ, যাঁর প্রতি ছাত্র, অভিভাবক ও সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের গভীর সম্মান ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র যেন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আজকের দিনে পেশা হিসাবে শিক্ষকতা অনেক ক্ষেত্রেই তার প্রাপ্য সম্মান হারিয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে এই সমস্যাটি আরও প্রকট। সেখানে অনেক সময় শিক্ষকরা তাঁদের প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় শিক্ষককে শুধুমাত্র এক জন বেতনভুক কর্মী হিসেবে দেখা হয়। ব্যবস্থাপনা এমন ভাবে শিক্ষককে পরিচালনা করে, যেন তিনি কেবলমাত্র অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণের জন্য নিয়োজিত এক জন সেবক। এই মানসিকতা শুধু শিক্ষকতার মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করে তোলে।
বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষকের ভূমিকা নিয়েও এক নতুন ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় শিক্ষককে আর ‘শিক্ষক’ বা ‘শিক্ষাদাতা’ হিসেবে নয়, বরং শুধুমাত্র এক জন ‘ফেসিলিটেটর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যদিও এই ধারণার কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, তবে যখন এটি শিক্ষকের মূল ভূমিকা ও কর্তৃত্বকে খর্ব করে, তখন তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এক জন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান প্রদান করেন না; তিনি এক জন ছাত্রের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই শিক্ষকদের সম্মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সমাজ, প্রশাসন এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়।
যদি এই প্রবণতা বজায় থাকে, যদি ‘গুরু’-কে ‘সহায়ক’-এর ভূমিকায় নামিয়ে আনা হয়, তবে একটি সুশিক্ষিত ও দায়িত্ববান নাগরিক সমাজ গঠনের আশা করা বৃথা। আমাদের প্রয়োজন সেই প্রাচীন ‘গুরু-শিষ্য পরম্পরা’-কে পুনরুজ্জীবিত করা, যেখানে শিক্ষককে তাঁর যথাযথ সম্মান প্রদান করা হয়। শিক্ষককে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিলে সমাজ আবার সৎ, শিক্ষিত ও মানবিক নাগরিক উপহার পাবে।
উজ্জ্বল সাঁতরা, জামালপুর, পূর্ব বর্ধমান
এল নিনিয়ো
সম্প্রতি এক রিপোর্টের ভিত্তিতে সারা পৃথিবী জুড়ে সুপার এল নিনিয়ো পরিস্থিতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এল নিনিয়ো একটি সামুদ্রিক এবং বায়ুমণ্ডলের জলবায়ু পরিস্থিতি, যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। এল নিনিয়োর বছরে এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার মতো বহু মহাদেশ বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত হয়। আমাদের দেশের স্বাভাবিক বর্ষা যে মৌসুমি বায়ুর উপর নির্ভর করে, তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এই এল নিনিয়ো পরিস্থিতি তৈরি হলে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এ বছর যে এল নিনিয়ো পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা যথেষ্ট শক্তিশালী হতে চলেছে। তাই তাকে ‘সুপার এল নিনিয়ো’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতি ভারতে নব্বই শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত কমিয়ে দিতে পারে। তেমনটা হলে কৃষি ব্যবস্থায় এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ইতিহাস বলছে, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল দেড়শো বছর আগে ১৮৭৭-৭৮ সালে। ব্রিটিশ-ভারতে সে সময় চাষের অবস্থা সঙ্গিন হয়ে পড়েছিল। দেখা দিয়েছিল খরা আর মহামারি। শুধু ভারত নয়, ব্রিটেন, চিন, ব্রাজ়িল, আফ্রিকা— কেউই পার পায়নি।
এ দিকে ওয়ার্ল্ড মিটিয়োরোলজিক্যাল অর্গানাইজ়েশন (ডব্লিউএমও) পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ ২০টি শহরের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে উনিশটিই ভারতের। তা ছাড়া, এর কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট প্রভাবিত হয় সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র। সবটা মিলে আশঙ্কা করা হচ্ছে সারা দেশের উষ্ণতা যথেষ্ট বাড়বে। এমনিতেই রাশিয়া-ইউক্রেন, আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়ার মতো দেশের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা, আমেরিকা, চিনের মতো উন্নত রাষ্ট্রগুলির পরিবেশের প্রতি উদাসীনতার ফলে গোটা পরিবেশটাই আজ ঘেঁটে আছে। এর মাঝে এল নিনিয়োর প্রভাবে মানুষের ভোগান্তি আরও কত বাড়ে, সময়ই তা বলবে।
শঙ্খ অধিকারী, সাবড়াকোন, বাঁকুড়া
অযথা আলো
সম্প্রতি রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় পালাবদল হয়েছে। কিন্তু এখনও বেশ কিছু ফ্লাইওভারে কিংবা এলাকার ল্যাম্পপোস্টে সাদা-নীল টুনি আলো জড়ানো রয়েছে। রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো থাকা সত্ত্বেও ওই টুনিগুলি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে কি বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে না?
শুভ্র মৌলিক, কলকাতা-৩৬
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)