Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: চুপির চরে পাখিরা

জেগে ওঠা উর্বর চরে এবং কচুরিপানা ও নানা রকমের জলজ উদ্ভিদকে জমিয়ে, পচিয়ে তার উপর চাষবাস শুরু হয়েছে।

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২১ ০৫:০৪

পক্ষিপ্রেমী মানুষের কাছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর চুপির চর অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। গঙ্গা থেকে সৃষ্টি হওয়া এই জলাভূমিতে সারা বছর পাখিদের আনাগোনা থাকলেও, প্রত্যেক বছর প্রধানত শীতের সময় রেড-ক্রেস্টেড পোচার্ড, বিভিন্ন প্রজাতির স্নাইপ, গ্লসি আইবিস, ব্ল্যাক হেডেড আইবিস, লেসার হুইসলিং ডাক, ফেরুজিনাস পোচার্ড, ব্রোঞ্জ-উইংড জাকানা, কটন পিগমি গুজ়, পার্পল হেরন, গ্রে হেরন, এশিয়ান ওপেনবিল স্টর্ক, পায়েড কিংফিশার-সহ অসংখ্য পরিযায়ী এবং দেশীয় পাখি ভিড় করে।

প্রায় নিয়মিত চুপির চরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে লক্ষ করছি যে, সাম্প্রতিক কালে এই চরে স্থানীয় মানুষের আগ্রাসনের ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে পাখিদের এই বাসস্থান। জেগে ওঠা উর্বর চরে এবং কচুরিপানা ও নানা রকমের জলজ উদ্ভিদকে জমিয়ে, পচিয়ে তার উপর চাষবাস শুরু হয়েছে। সেখানে যেমন বিকট শব্দে পাম্প মেশিন চলছে, তেমনই চলছে পাওয়ার টিলার। এই শব্দদূষণের সঙ্গে জমিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ এই বিরল প্রজাতির পাখিদের জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। পাখিদের আনাগোনা সম্প্রতি অনেক কমে গিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে পরিযায়ী বা রেসিডেন্ট বার্ড-এর আশ্রয়স্থল এমনিতে প্রায় নেই বললেই চলে। এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা না করলে দ্রুত হারিয়ে যাবে চুপির চরের পাখপাখালি।

অজয় দাস, উলুবেড়িয়া, হাওড়া

Advertisement

বন্ধ চিনিকল

মুর্শিদাবাদ শিল্পবিহীন জেলা, শিল্প একেবারে নেই বললেই চলে। ১৯৪৮ সাল থেকে বেলডাঙার চিনিকল আজও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে কেন? যেখানে আমাদের জেলাতে লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক কাজের অভাবে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ও বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে, সেখানে এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বেলডাঙা চিনিকল খোলার উদ্যোগ রাজ্যের কোনও সরকার করেনি। এখন যেখানে শুগার মিল, সেখানে আগে ছিল চামড়ার কারখানা। ১৯৩৩ সালে ওই চামড়ার কারখানা সংস্কার করে বেলডাঙা শ্রীরাধা কিসান শুগার মিলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু, পারিবারিক গন্ডগোলে এই চিনিকল বন্ধ হয়ে যায় ১৯৪৮ সালে। ১৯৯৩ সালে রাজ্য সরকার এই চিনিকল লিজ় দেয় চাপদানি চটকলকে। কিন্তু তারাও একে চটকল হিসেবে চালু করতে পারেনি। এই চিনিকলের বহু জমি রয়েছে। সব বেদখল হতে চলেছে। এখানে যদি কোনও শিল্প গঠন করা যায়, তা হলে আমাদের জেলার বেকার সমস্যার হয়তো কিছুটা নিরসন হবে।

অপূর্ব্বকুমার রায় চৌধুরী, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

খাদ্য অপচয়

সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে গত ১ বছরে খাদ্য অপচয় বা নষ্টের পরিমাণ প্রায় ৯৩ কোটি টন! ভারতে তার পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি টন, আর চিনে প্রায় ৯ কোটি টন। ধনী দেশ আমেরিকার ক্ষেত্রে সংখ্যাটা প্রায় ২ কোটি টন! খবরটা বিশ্ব তথা ভারতবাসীর কাছে যথেষ্ট লজ্জার এবং গভীর দুশ্চিন্তার বিষয়। যেখানে ভারতে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ কোটি মানুষ অপুষ্টির শিকার এবং ২৫ লক্ষ লোক অনাহারে মরে, তখন এমন অপচয় অনভিপ্রেত।

হোটেল-রেস্তরাঁতে যাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাঁদের অনেকেই প্রচুর খাদ্য নষ্ট করেন, কারণ আর্থিক প্রাচুর্য। কলকাতা, তথা ভারতের বিভিন্ন শহরের ফুটপাতে যাঁরা খাবার খান, তাঁরাও কিছু কম খাবার নষ্ট করেন না! এমনকি প্রতিনিয়ত বেশ কিছু খাবার নষ্ট হয় অনিচ্ছাকৃত ভাবে, খাবার বিক্রি না হওয়ার জন্য।

আমরা নিজেদের শিক্ষিত বলে বড়াই করি। কিন্তু, কার্যক্ষেত্রে তার প্রমাণ দিই না! বরং, খাবার বা জল অপচয় করে আমরা আনন্দ উপভোগ করি, গর্ব বোধ করি! কখনও ভাবি না, যে ফুটপাতের দোকান থেকে খাবার কিনে খাওয়ার পর অন্তত
১০ শতাংশ প্রতি দিন নষ্ট করছি,
সেই ফুটপাতেই কত ভিখারি বা হতদরিদ্র মানুষ দিনের পর দিন না খেয়ে বা কম খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন ও অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছেন। বেশ কিছু জন মারাও যাচ্ছেন।

বাড়িতেও আমরা নিত্য কত খাবার না খেয়ে ফেলে দিই, যা একটু সচেতন ও মানবিক হলে‌ই কমানো বা বন্ধ করা যায়। আর্থিক ভাবে সচ্ছল পরিবারের বাচ্চারা টিফিনের যে খাবার নিত্য না খেয়ে অপচয় করে, তার পরিমাণও খুব একটা কম নয়। বর্তমানে ভারতে স্কুলগুলিতে
মিড-ডে মিল চালু আছে বলে অপুষ্টি তথা অনাহারের সংখ্যা অনেকটাই কমানো গিয়েছে।

নষ্ট হওয়া খাবার থেকে পরিবেশ যে দূষিত হচ্ছে, এটাও মাথায় রাখতে হবে। এবং তার থেকেও বেশ কিছু মানুষ রোগে ভুগছেন ও মারা যাচ্ছেন। এই অপ্রত্যাশিত খাদ্য অপচয় রুখতে বা কমাতে গেলে সর্ব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, সচেতন হতে হবে, নিজেদের প্রকৃত অর্থে শিক্ষিতের ন্যায় আচরণ করতে হবে এবং অবশ্যই বাস্তবমুখী ও মানবিক হতে হবে।

সরকারকেও অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। প্রয়োজনে রেস্তরাঁ বা যে কোনও দোকানে, এবং ফুটপাতের স্টলে খাবার নষ্ট বা অপচয় করার জন্য জরিমানার বন্দোবস্ত করতে হবে। যত টাকার খাবার নষ্ট হবে, তার দুই বা তিন গুণ টাকা জরিমানা হিসেবে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশ ও প্রশাসনকেও এ ব্যাপারে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমাজসেবী সংস্থাদেরও এগিয়ে আসতে হবে, টিভি ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে এই অপচয় বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট প্রচার করতে হবে, বাবা-মায়েদেরও তাঁদের সন্তানদের খাবারের প্রয়োজনীয়তা ও খাবার নষ্টের খারাপ দিকটা বোঝানোর দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য ও শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। রেস্তরাঁ, ফুটপাত বা অন্য খাবারের দোকান এবং বাড়িতেও যে খাবার বেঁচে যাবে, তা সমাজসেবী সংস্থার মাধ্যমে গরিবদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন হোম বা অনাথ আশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

এমনকি যদি এই অবিক্রীত ও ফেলে দেওয়া খাবার পথকুকুর, বিড়াল বা অন্য পশুদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা যায়, তাতেও সেই খাবারের সদ্ব্যবহার হয়। আশা করা যায়, সর্ব স্তরের মানুষ, সরকার, পুলিশ ও প্রশাসন খাদ্য অপচয়ের ফল ও অপকারিতার ব্যাপারটা জেনে ও মাথায় রেখে সচেতন ভাবে অপচয় রোধ করবেন।

পঙ্কজ সেনগুপ্ত, কোন্নগর, হুগলি

জলসঙ্কট

আমি বেহালা ব্লাইন্ড স্কুল এলাকার বাসিন্দা। গত এক বছর ধরে দেখছি, বেহালা ব্লাইন্ড স্কুল, ম্যান্টন ও অশোকার ৩টি রাস্তার কল থেকে ক্রমাগত জল নষ্ট হতে থাকে। কলগুলিতে নলের কোনও ব্যবস্থা নেই। আর থাকলেও তা কাজ করে না। ফলে, জল ব্যবহার করার পরে কলগুলিকে বন্ধ করে দেওয়ার কোনও উপায় নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা যথেচ্ছ জল ব্যবহার করে চলে যান এবং জল ‘জলের মতো’ পড়তেই থাকে। স্থানীয়দের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁদের সময় হয় না। জলের অপচয়ও কি একটা কথা বলার বিষয় এই ব্যস্ত জীবনে! পার্টি অফিস ও বেহালা কর্পোরেশনে জানিয়েছি প্রায় ছ’মাস আগে। কিছু ফল হয়নি।

আমরা বোধ হয় ভাবছি নিত্যব্যবহার্য জল আমাদের অফুরান আছে। আমরা ভুলে গিয়েছি, পৃথিবীতে বিশুদ্ধ জলের পরিমাণ জলসম্পদের ০.৫ শতাংশেরও কম। আমরা বোধ হয় আফ্রিকার খরা-কবলিত দেশগুলির দৈনন্দিন লড়াই দেখিনি। সেখানকার শিশুদের তৃষ্ণার্ত চোখগুলি আমাদের ছুঁয়ে যায় না। যে প্রাকৃতিক সম্পদ জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, তার অপচয় নিয়ে এমন উদাসীনতা! এ আমরা কোন মূর্খের স্বর্গে বাস করছি। এই ভাবে চললে অদূর ভবিষ্যতে জলসঙ্কট অনিবার্য।

নিশান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা-৩৪

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy